ঝাড়ুদার কি স্বপ্ন দেখতে পারে না? সোনার দোকানের কাঁচের বাইরে দাঁড়ানো শ্রমিকের গল্প মনে করিয়ে দেয় আসল সমতা

সৌদি আরবের একটি নামী গহনার দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক সাধারণ পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ছবি সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে। পরনে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর নীল রঙের সাধারণ ইউনিফর্ম, হাতে কোনো কাজ নেই, মুখে কোনো অভিযোগ নেই—শুধু কাঁচের ওপারে সাজানো সোনালী গহনাগুলির দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন তিনি। এই ছবিটি যখন ইন্টারনেটে ছড়ায়, তখন এক শ্রেণির মানুষ তাঁর দারিদ্র্য নিয়ে উপহাস শুরু করে। প্রশ্ন তোলা হয়, “একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী কেন গহনা দেখবে?” কিন্তু এই নিষ্ঠুর ব্যঙ্গের আড়ালেই লুকিয়ে ছিল এক নির্মম সামাজিক সত্য।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই শ্রমিকের নাম আব্দুল করিম। তিনি সৌদি আরবে কর্মরত একজন সাধারণ বাংলাদেশি শ্রমিক। ছবিটি ভাইরাল হওয়ার পর একজন মানবতাবাদী মানুষ তাঁর খোঁজে বের হন এবং তাঁকে খুঁজেও পান। এরপরেই শুরু হয় এক অবিশ্বাস্য মানবিক পালাবদল। বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষ আব্দুল করিমের জন্য অর্থ, খাবার, মোবাইল ফোন এবং দেশে ফেরার বিমান টিকিট পাঠাতে শুরু করেন। এখানেই শেষ নয়, যে গহনার দোকানের বাইরে দাঁড়িয়ে তাঁকে উপহাসের শিকার হতে হয়েছিল, সেই একই দোকানে তাঁকে সসম্মানে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং যে গহনাটি তিনি মুগ্ধ হয়ে দেখছিলেন, তা উপহার হিসেবে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
তবে এই ঘটনার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কোনো সোনা বা গহনা নয়, বরং একজন মানুষের হারানো মর্যাদা ও আত্মসম্মান ফিরে পাওয়া। এই ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, মানুষের পেশা দিয়ে তার মানবিক সত্তাকে মাপা যায় না। একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, চালক কিংবা দিনমজুরের কাজ শুধু তাঁর জীবিকা নির্ধারণ করে, তাঁর স্বপ্ন দেখার স্বাধীনতা কেড়ে নেয় না। সমাজে প্রকৃত বৈষম্য কেবল টাকার অঙ্কে নয়, বরং এই সংকীর্ণ মানসিকতায় লুকিয়ে থাকে যেখানে মনে করা হয় যে গরিব মানুষের স্বপ্ন দেখার বা সুন্দর কিছু চাওয়ার কোনো অধিকার নেই। আব্দুল করিমের এই ঘটনা প্রমাণ করেছে যে, মানুষের পরিচয় তার পোশাক বা পদমর্যাদায় নয়, বরং সে একজন স্বাধীন মানুষ।