অন্যের সিম ব্যবহার করে ৫০ লক্ষ টাকা তোলাবাজি! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের কপালে জুটেছে জেল

শালবনির জমি দুর্নীতি থেকে শুরু করে বালি কারবারে অনিয়ম এবং চাকরি বিক্রির মতো একাধিক গুরুতর মামলায় নাম জড়াল তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের। বালি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা তোলাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগে শালবনী থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছিল। সোমবার মেদিনীপুর আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁর ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সুমিত রায় নাকি অন্য ব্যক্তিদের নামে সিম কার্ড তুলে তা নিজের অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতেন। ইতিমধ্যেই পুলিশ এমন ছয়জন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছে, যাঁদের মধ্যে একজনের নামে দুটি এবং চারজনের নামে আলাদা আলাদা সিম তোলা হয়েছিল। ওই সিমকার্ডের মালিকেরা কালীঘাট থানা এলাকার বাসিন্দা। শালবনী থানায় ডেকে পাঠানো হলে তাঁরা সমস্ত তথ্য পুলিশকে জমা দেন। এদিনের শুনানিতে সুমিতের আইনজীবী জামিনের আবেদন করলেও বিচারক সেই আবেদন খারিজ করে দেন। সরকারি পক্ষের আইনজীবী সৈয়দ নাজিম হাবিব জানান, তদন্তের স্বার্থে আগামী দিনে সুমিতকে ফের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হতে পারে।

উল্লেখ্য, বালি ব্যবসায়ীর অভিযোগ ছিল, গাড়ি করে অতিরিক্ত বালি বহনের অনুমতি দিতে ৩০ লক্ষ টাকা নেওয়া হলেও তা মেলেনি এবং সেই টাকাও ফেরত পাননি তিনি। চলতি বছরের ২৬ জুন শালবনী থানায় এই বিষয়ে এফআইআর দায়ের হয়। এর আগে ডেবরা থানায় চাকরি প্রতারণা মামলাতেও সিআইডি-র জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল সুমিত রায়কে। ২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে। বিকাশ ভবন ও খাদ্য ভবনের মতো সরকারি দফতরে নিয়ে গিয়ে ভুয়ো মেডিক্যাল পরীক্ষার ব্যবস্থা করার মতো চাঞ্চল্যকর তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে। একের পর এক অভিযোগে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের আপ্তসহায়কের জেরে অস্বস্তি বাড়ছে রাজনৈতিক মহলে।