ভাঙল টেস্ট টিউব, মুহূর্তে শেষ তরুণী! রাশিয়ার রহস্যমৃত্যুতে প্লেগ আতঙ্ক ঘিরে বিশ্বজুড়ে শোরগোল

রাশিয়ার সাইবেরিয়ার একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল গবেষণাগারে বিপজ্জনক রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া নিয়ে কাজ করার সময় এক তরুণী কর্মীর রহস্যমৃত্যু বিশ্বজুড়ে নতুন করে মারাত্মক প্রশ্ন তুলেছে। নিহত ২৮ বছর বয়সী ল্যাবকর্মী দারিয়া শিপিলোভা গত ২৫ সেপ্টেম্বর কাজ করার সময় একটি টেস্ট টিউব ভেঙে ফেলার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অক্টোবরের শুরুতে তার মৃত্যু হয়। যদিও রাশিয়া এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই মৃত্যুর জন্য প্লেগ সংক্রমণকে দায়ী করেনি এবং একে এক ধরনের অজ্ঞাত নিউমোনিয়া বলে উল্লেখ করেছে, তবুও ওই কর্মীর সংস্পর্শে আসা প্রায় ২০০ জনকে কঠোর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে সর্বোচ্চ জৈব-নিরাপত্তা সম্পন্ন বিএসএল-৩ এবং বিএসএল-৪ গবেষণাগারগুলোর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
কোভিড-১৯ মহামারী বিশ্বকে শিক্ষা দিয়েছে যে কোনো নতুন বা অজ্ঞাত ভাইরাসের দ্রুত মোকাবিলা করতে হলে উন্নত গবেষণাগার, প্রতিষেধক ও টিকাকরণের বিকল্প নেই। আর এই কারণেই বর্তমানে বিশ্বজুড়ে উচ্চ-নিরাপত্তার গবেষণাগারের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারা বিশ্বে প্রায় ৩,৫১৫টি বিএসএল-৩ এবং ১১০টি বিএসএল-৪ ল্যাব রয়েছে, যেখানে অত্যন্ত মারাত্মক রোগজীবাণু নিয়ে গবেষণা চালানো হয়। তবে বিজ্ঞানীদের মতে, জীবাণুগুলো যত বেশি বিপজ্জনক হয়, নিরাপত্তার মানদণ্ড ও তত্ত্বাবধানও তত বেশি কঠোর হওয়া প্রয়োজন। সামান্য অবহেলা বা পরীক্ষাগারের ত্রুটি গোটা মানবজাতিকে ভয়াবহ সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে। রাশিয়ার এই সাম্প্রতিক ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে, আধুনিক প্রযুক্তির উৎকর্ষের যুগে গবেষণাগারগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি।