ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার বেগে ছুটবে ট্রেন! উত্তর-পূর্ব ভারতের যাতায়াত আরও দ্রুত করতে চালু হলো নতুন রেল সেতু

উত্তর ও দক্ষিণ বিহারের মধ্যে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। মোকামায় গঙ্গা নদীর ওপর বিদ্যমান ঐতিহাসিক রাজেন্দ্র সেতুর সমান্তরালে প্রায় ২,৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সর্বাধুনিক ডাবল-লাইন রেল সেতুতে সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। রেলওয়ে সেফটি কমিশনারের (সিআরএস) সবুজ সংকেত ملنے পর এই নতুন ট্র্যাকে যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়। এর ফলে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘদিনের যানজটপূর্ণ মোকামা-বরাউনি সেকশনে এখন থেকে মোট তিনটি রেললাইন সক্রিয় হলো, যা এই রুটের রেল পরিবহনের ধারণক্ষমতাকে এক লাফে প্রায় আড়াই গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রায় সাত দশক ধরে চালু থাকা পুরোনো রাজেন্দ্র সেতুর ওপর একটিমাত্র রেললাইন থাকায় এতদিন বড় ধরনের রেল প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হতো। ট্রেনের গতি সীমিত থাকার কারণে যাত্রীবাহী ও এক্সপ্রেস ট্রেনগুলোকে প্রায়ই বাইরের সিগন্যালে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। তবে নতুন এই সেতুটি চালু হওয়ায় পুরোনো সেতুটি বন্ধ হচ্ছে না, বরং দুই সেতু মিলিয়ে ট্রেন চলাচল আরও সুগম হবে। রেল প্রকৌশলীদের মতে, নতুন এই সেতুটিতে ট্রেনগুলো প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার বেগে চলাচল করতে সক্ষম হবে। প্রথম পর্যায়ে পাটনা-বেগুসরাই-বরাউনি রুটের প্রায় ২৪ থেকে ৩০টি প্যাসেঞ্জার ও সুপারফাস্ট ট্রেন এই নতুন ট্র্যাকে স্থানান্তরিত করা হবে, যার ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতগামী দূরপাল্লার ট্রেনগুলির সময় অনেকটাই বাঁচবে।

১৫.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেগা প্রকল্পের মধ্যে গঙ্গার ওপর ১.৯ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল সেতু ছাড়াও ১৭টি ইস্পাতের স্প্যান এবং প্রায় ৩.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ রেল ভায়াডাক্ট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নতুন এই পরিকাঠামো শুধু বিহারের বেগুসরাই, লক্ষীসরাই, খাগাড়িয়া, সমস্তিপুর, সহরসা, পূর্ণিয়া, কাটিহার, পাটনা, আরারিয়া, কিষাণগঞ্জ, গয়া এবং নওয়াদা জেলার যাত্রীদেরই স্বস্তি দেবে না, বরং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। পূর্ব মধ্য রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই যুগান্তকারী প্রকল্প চালুর ফলে দীর্ঘদিনের সড়কপথের নির্ভরতা কমে সাধারণ মানুষ দ্রুত ও নিরাপদ রেল পরিষেবার সুফল পাবেন।