জিএসটিতে বিরাট বদল! ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিয়ে গ্রেফতারির নিয়ম শিথিল করার ঐতিহাসিক পদক্ষেপ কেন্দ্রের

দেশের জিএসটি (GST) ব্যবস্থায় ফের এক যুগান্তকারী ও বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটল কেন্দ্র সরকার। আগামী ৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জিএসটি কাউন্সিল (GST Council)-এর বৈঠকে কর কাঠামো আরও সহজ করা এবং ব্যবসায়ীদের অযথা হয়রানি কমাতে একগুচ্ছ দূরদর্শী প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হতে চলেছে। এই প্রস্তাবগুলির মূল লক্ষ্য হল দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ করদাতাদের আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক ঝঞ্ঝাট থেকে মুক্তি দেওয়া।
সবচেয়ে বড় এবং তাৎপর্যপূর্ণ প্রস্তাবটি হল জিএসটি আধিকারিকদের সরাসরি গ্রেফতার করার ক্ষমতার ওপর লাগাম টানা। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে করদাতাকে গ্রেফতার করার আগে বিচারবিভাগীয় অনুমোদন বা আদালতের সবুজ সঙ্কেত নেওয়া বাধ্যতামূলক হতে পারে। পাশাপাশি, জিএসটি সংক্রান্ত ফৌজদারি মামলা দায়ের করার ন্যূনতম সীমা ১ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে একলাফে ৫ কোটি টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর ফলে ছোটখাটো কর সংক্রান্ত বিরোধগুলিকে আর অহেতুক ফৌজদারি অপরাধের আওতায় ফেলা হবে না। তবে ইচ্ছাকৃত কর ফাঁকি বা বড় মাপের জালিয়াতির ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বজায় রাখবে সরকার।
ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট (ITC) সুরক্ষার ক্ষেত্রেও বড় স্বস্তির খবর আসছে। কোনো ব্যবসায়ী বৈধ ইনভয়েসের ভিত্তিতে আইটিসি দাবি করার পরেও যদি সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী বা ভেন্ডার জিএসটি জমা না দেন, তবে শুধু সেই কারণে প্রকৃত ক্রেতার আইটিসি বাতিল করা হবে না। এ ক্ষেত্রে কর আদায়ের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কেবল কর ফাঁকি দেওয়া সেই সরবরাহকারীর বিরুদ্ধেই। এছাড়া ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে ব্যবসা করা ছোট বিক্রেতাদের জন্য রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমনকি ১০ হাজার টাকার কম বকেয়া করের ক্ষেত্রে কোনো সরকারি নোটিস না পাঠানোর প্রস্তাবও বিবেচনাধীন রয়েছে। সব মিলিয়ে, জিএসটি ২.০-এর এই নতুন রূপরেখা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যকে আরও গতিশীল ও স্বস্তিদায়ক করে তুলবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।