৯/১১-এর ছায়া ফ্লাইদুবাইতে! জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার হুমকিতে বিমান চলাচলে চরম সতর্কতা

ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ঘটা রহস্যজনক ঘটনার তদন্তে এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও ভয়াবহ মোড় সামনে এসেছে। এতদিন কেবল সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালতের রায়ে এটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, তবে এবার কুখ্যাত আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদাও এই ঘটনার তীব্র প্রশংসা করেছে। শুধু তাই নয়, এটি যে প্রায় ১৮১ জন যাত্রীর প্রাণ কেড়ে নেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত এবং ভয়াবহ ষড়যন্ত্র ছিল, সংগঠনের পক্ষ থেকে সেটিরও জোরালো প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, আল-কায়েদার একটি মুখপত্র বা প্রকাশনায় মার্কিন এবং ইসরায়েলি যাত্রীবাহী বিমানগুলোকে তাদের পরবর্তী প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেওয়ার জন্য প্রকাশ্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, আল-কায়েদা সমর্থিত বিভিন্ন টেলিগ্রাম চ্যানেলে এই সংক্রান্ত বিষয়বস্তু ব্যাপকভাবে শেয়ার করা হলেও পরবর্তীতে তা ডিলিট করা হয়। ওই প্রচারণামূলক নিবন্ধটিতে দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইট FZ1073-এ ঘটা সাম্প্রতিক উদ্বেগজনক ঘটনার বিশদ উল্লেখ করা হয়েছে। আরবি ভাষায় প্রকাশিত ওই নিবন্ধে ককপিটের সেই জিহাদি সহ-পাইলটের চরম ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের আরও নাশকতামূলক ঘটনা ঘটিয়ে আমেরিকা ও ইসরায়েলকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের বিশ্ব কাঁপানো ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার স্মৃতি উসকে দিয়ে জঙ্গি গোষ্ঠীটি বিশ্বজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি নাগরিকদের বহনকারী বিমানগুলোকে আকাশপথে টার্গেট করার জন্য আত্মঘাতী ও অনুগত জঙ্গিদের প্রতি কড়া বার্তা পাঠিয়েছে।

ফ্লাইদুবাই ফ্লাইট FZ1073-এর সেই যাত্রায় মোট ১৭০ জনেরও বেশি যাত্রী ও ক্রু সদস্য ছিলেন। সৌদি আরবের আকাশসীমা অতিক্রম করার সময় বিমানটি হঠাৎ অত্যন্ত সন্দেহজনকভাবে তীব্র বাঁক নেয় এবং অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যে ১৬,০০০ ফুটেরও বেশি নিচে নেমে আসে। সেই সময় বিমানটির ভেতর থেকে জরুরি অবস্থা এবং বিমান ছিনতাইয়ের বিপৎসংকেত পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে জানা যায়, সহ-পাইলট হামাম আল-হামামি ককপিটের ভেতরে ক্যাপ্টেন স্মিথ মাছারকে অত্যন্ত নির্মমভাবে আক্রমণ করেছিলেন। সহ-পাইলট ওই হামলায় এমার্জেন্সির জন্য সংরক্ষিত একটি কুঠার ব্যবহার করেছিলেন। তবে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাঝেও আহত ক্যাপ্টেন কোনোমতে দরজা খুলে ফেললে, সাহসিকতার সঙ্গে যাত্রীরা ভেতরে ছুটে এসে ঘাতক সহ-পাইলটকে জাপটে ধরে কাবু করেন এবং বড়ো ধরনের বিপর্যয় এড়ান। শেষ পর্যন্ত বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়। এই নতুন তথ্য আন্তর্জাতিক মহলে এবং বিমান চলাচলের নিরাপত্তায় এক গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।