এক ক্লিকেই থ্রি-ডি ভিউ! মুরাদাবাদে খাঁচাবন্দি একের পর এক বাঘ, ড্রোন ক্যামেরার নজরে হাই-টেক তল্লাশি

উত্তরপ্রদেশের মুরাদাবাদ জেলায় দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা চিতাবাঘের আতঙ্ক কাটাতে বন বিভাগের সবচেয়ে বড় রেস্কিউ অভিযান সফল রূপ নিচ্ছে। কঁঠ তহসিল এলাকার সমদগড় ওরফে সিকান্দরাবাদ গ্রামে বন বিভাগের দল আরও একটি বড় সাফল্য অর্জন করেছে, যেখানে ২৪তম চিতাবাঘটিকে একটি লোহার খাঁচায় বন্দি করা হয়েছে। চিতাবাঘ ধরা পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে শত শত গ্রামবাসীর ভিড় জমে যায়। মূলত গত সপ্তাহে একই গ্রামের একটি টিউবওয়েলের ছাদের ওপর একসঙ্গে তিনটি চিতাবাঘকে বসে থাকতে দেখা গিয়েছিল, যার পর থেকেই পুরো এলাকায় চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে বন বিভাগের সতর্কর্তা ও লাগাতার নজরদারির ফলে এই তিনটি চিতাবাঘকেই একে একে সফলভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

মুরাদাবাদ জেলায় চিতাবাঘের উপদ্রব মোকাবিলায় গত ৩ আগস্ট ২০২৬ থেকে একটি বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছিল। এই অভিযানে এখনও পর্যন্ত মোট ২৪টি চিতাবাঘকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। যার মধ্যে ঠাকুরদ্বার তহসিল থেকে ১৬টি এবং কঁঠ তহসিল থেকে ৮টি চিতাবাঘ ধরা পড়েছে। যদিও এই বন্যপ্রাণী ও মানুষের সংঘাতে এখনও পর্যন্ত ৪ জনের (তিন নারী ও এক পুরুষ) মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, দ্রুতগতির যানবাহনের ধাক্কায় ও নানা সংঘর্ষে রাস্তাঘাট থেকে তিনটি মৃত চিতাবাঘকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে হাই-টেক প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। জেলার সমস্ত সংবেদনশীল ও হটস্পট এলাকায় প্রায় ৪৬টি বড় আকারের খাঁচা পাতা হয়েছে। চিতাবাঘের সঠিক অবস্থান, চলাফেরা ও গতিবিধির ওপর নজর রাখতে ড্রোন ক্যামেরা এবং নাইট-ভিশন ক্যামেরা ট্র্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন যে, ২৪তম চিতাবাঘটি ধরা পড়লেও আতঙ্ক কাটেনি, কারণ এক জায়গায় খাঁচা বন্দি হওয়ার পরপরই অন্য কোনো গ্রাম থেকে ফের বাঘের ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে। তাই এলাকাবাসী সমস্ত সংবেদনশীল এলাকায় নিয়মিত টহলদারি ও কম্বিং অপারেশন জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।