সাগরদিঘির বিধায়ক বাইরন বিশ্বাসের বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! পুড়িয়ে মারার না কি নেপথ্যে অন্য রহস্য?

সাগরদিঘির বিধায়ক বাইরন বিশ্বাসকে কি পরিকল্পিতভাবে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছিল? এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে বর্তমানে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক মহলে চরম চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। গত শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে নিজের বাড়িতেই হঠাৎ অগ্নিদগ্ধ হন বাইরন বিশ্বাস। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ প্রশাসন ও তদন্তকারী আধিকারিকরা তৎপরতার সঙ্গে তদন্ত শুরু করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথম লক্ষ্য করেন যে বাইরন বিশ্বাসের বাড়ি থেকে তীব্র আগুনের শিখা ও কালো ধোঁয়া বেরিয়ে আসছে। তাঁরাই সঙ্গে সঙ্গে দমকল বাহিনীকে খবর দেন। দমকলের একটি ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর বাড়ির ভিতর থেকে গুরুতর অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় বাইরন বিশ্বাসকে উদ্ধার করা হয়। ততক্ষণে তাঁর শরীরের বেশ কিছুটা অংশ পুড়ে গিয়েছিল। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, বিধায়কের দুই হাতের কনুইয়ের নীচের অংশ এবং হাঁটুর নীচ থেকে পুড়ে গিয়েছে। ঘটনার পরই তাঁকে সরকারি মেডিক্যাল কলেজে রেফার করা হলেও, বর্তমানে তিনি নিজের নার্সিংহোমেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ওই হাসপাতালে বার্ন ইউনিট না থাকলেও তাঁকে কঠোর পর্যবেক্ষণের জন্য আইসিইউ-তে রেখে চিকিৎসা চালানো হচ্ছে।
জঙ্গিপুরের পুলিশ সুপার সুরিন্দর সিং জানিয়েছেন, বিধায়ক বাইরন বিশ্বাস বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি আরও জানান, “সুপার ফিশিয়াল ইনজুরি হয়েছে। খুব গভীর ক্ষত বা বেশি পুড়ে যাননি।” এদিকে, প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের তরফ থেকে অনুমান করা হচ্ছে যে এটি নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে এই নৃশংস ঘটনার পেছনে কে বা কারা জড়িত, তা এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। ঘটনার নেপথ্যে পারিবারিক অশান্তির জের রয়েছে কি না, সে দিকটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে দ্রুত রহস্য উন্মোচনের আশ্বাস দিয়েছে।