বিলাসবহুল জীবন কাটানোর নেশা! সেনা অস্ত্র চুরি করে ব্যাঙ্ক ও গয়নার দোকানে বড়সড় ডাকাতির ছক ভেস্তে দিল পুলিশ

তেলেঙ্গানার বোল্লারামের মাদ্রাজ রেজিমেন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ সেনা অস্ত্র চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনার গভীরে গিয়ে একের পর এক রোমহর্ষক তথ্য উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকাকালীনই এই বড়সড় অপরাধের ছক কষেছিলেন মূল অভিযুক্ত তথা প্রাক্তন হাবিলদার উপ্পুথোল্লা মাল্লেশ ওরফে রাজু। বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত মাল্লেশ অতীতেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২২ সালে পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর সেনানিবাসে কর্মরত থাকার সুবাদে স্থানীয় আখের বিক্রেতা বীরবল শাহ এবং কুখ্যাত অস্ত্র কারবারি অভি দে ওরফে ওবির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সেই সময় মহাসড়কে ডাকাতির উদ্দেশ্যে তিনি বাংলার ওই দুই ব্যক্তির কাছ থেকে একটি দেশি পিস্তল ও পাঁচ রাউন্ড গুলি কিনে নিজের বাড়িতে লুকিয়ে রেখেছিলেন।
চলতি বছরের শুরুর দিকে মাদ্রাজ রেজিমেন্ট থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর মাল্লেশের অপরাধপ্রবণতা আরও বেড়ে যায়। দ্রুত ধনী হওয়ার নেশায় তিনি এবার ব্যাংক এবং গয়নার দোকানে বড়সড় ডাকাতির পরিকল্পনা করেন। এই কাজে নিজের ভাই মল্লিকার্জুন ও বন্ধু নিরঞ্জনের পাশাপাশি রেজিমেন্টের ভিতরের কয়েকজন সহকর্মীকেও সঙ্গে নেন তিনি। অস্ত্রাগারের দায়িত্বে থাকা সিপাই কোন্দুরি শেষুলু, নায়েক বিনোদ কুমার এবং হাবিলদার প্রবীণকে নিজের দলে ভিড়িয়ে এই নিখুঁত চুরির জাল বোনেন মাল্লেশ। এরপর গত ৩০ আগস্ট অত্যন্ত সুকৌশলে অস্ত্রাগারের তালা ভেঙে ১২টি অত্যাধুনিক বন্দুক, ১,৯১২ রাউন্ড তাজা গুলি এবং তিন জোড়া বাইনোকুলার চুরি করেন তিনি। ৩১ আগস্ট পরিদর্শনের সময় সামরিক আধিকারিকরা চুরির বিষয়টি বুঝতে পেরে বোল্লারাম থানায় এফআইআর দায়ের করেন।
পুলিশি তদন্তে নেমে গত ১১ সেপ্টেম্বর মূল অভিযুক্ত মাল্লেশকে পাকড়াও করে। পরবর্তী সময়ে তাঁর রিমান্ডে নেওয়া হয় এবং গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবরের মধ্যে দফায় দফায় জেরা করে এই নাশকতার পুরো ব্লু-প্রিন্টটি বের করে আনে পুলিশ। গত শনিবার মাকাজগিরির পুলিশ কমিশনার সুমাথি এক সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘটনায় জড়িত মোট আটজনকে গ্রেপ্তারের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। ধৃতদের তালিকায় মাল্লেশ ছাড়াও রয়েছে সেনার অস্ত্র চুরিতে সহায়তা করা তিন সক্রিয় সেনা সদস্য—শেষুলু, বিনোদ ও প্রবীণ, বাংলার অস্ত্র কারবারি অভি দে ও বীরবল শাহ এবং মাল্লেশের দুই সহযোগী মল্লিকার্জুন ও নিরঞ্জন। বর্তমানে ধৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।