অণ্ডালের পর এবার বার্নপুর! আকাশছোঁয়া সম্ভাবনায় শিল্পাঞ্চল পশ্চিম বর্ধমানে চালু হতে চলেছে বিমান পরিষেবা ও ট্রেনিং স্কুল

শিল্পাঞ্চল পশ্চিম বর্ধমানে বিমান পরিষেবার পরিধি আরও প্রসারিত করার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। অণ্ডালের কাজী নজরুল ইসলাম বিমানবন্দরের পর এবার বার্নপুরের ঐতিহাসিক ইস্কো এরোড্রমকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন এক সম্ভাবনার দিগন্ত। বিমান পরিষেবা চালুর প্রাথমিক প্রস্তুতির পাশাপাশি এই বিমানবন্দরটিকে ভবিষ্যতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানচালক প্রশিক্ষণের (ফ্লাইট ট্রেনিং স্কুল) কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জোরালো প্রস্তাব সামনে এসেছে। রাজ্যের মন্ত্রী তথা আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল এই পরিকল্পনা প্রকাশ্যে এনেছেন।

কেন্দ্রীয় সরকারের রিজিওনাল কানেক্টিভিটি স্কিমের আওতায় ইতিমধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বার্নপুরের এই এরোড্রমকে। বিমান পরিষেবা চালুর প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে এখানকার ১,২২০ মিটার দীর্ঘ রানওয়েকে আধুনিক করে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ১৮ আসনের ছোট বিমান চালানোর প্রাথমিক ভাবনা রয়েছে প্রশাসনের। তবে উড়ান চালুর আগে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত দিকগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে কিছু বাধা চিহ্নিত করেছে এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া (AAI)। বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকার কয়েকটি স্ট্রিট লাইটের খুঁটি, উঁচু গাছ, একটি মোবাইল টাওয়ার এবং একটি বাড়ির চিলেকোঠা বিমান চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এই সমস্যাগুলি দূর করতে ইস্কো কর্তৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসনের মধ্যে ইতোমধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এরই মধ্যে বিমানবন্দরটিকে ঘিরে এক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অণ্ডাল বিমানবন্দরের সঙ্গে বার্নপুরের দূরত্ব কম হওয়ায় এখানে দ্বিতীয় পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু প্রযুক্তিগত বিধিনিষেধ রয়েছে। সেই বাধা এড়াতে বিকল্প হিসেবে বার্নপুরে একটি আন্তর্জাতিক মানের ফ্লাইট ট্রেনিং স্কুল বা বৈমানিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। অগ্নিমিত্রা পালের মতে, এই গোটা অঞ্চলে এখনও উপযুক্ত কোনো ফ্লাইট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট নেই, যার কারণে স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের বিমান সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের জন্য কলকাতার মতো দূরে যেতে হয়। বার্নপুরেই যদি এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি গড়ে ওঠে, তবে স্থানীয় যুবক-যুবতীদের সামনে কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার খুলে যাবে। একই সঙ্গে এই কেন্দ্রটিকে কেন্দ্র করে একাধিক সহায়ক শিল্পও ডালপালা মেলতে পারে।

বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে রাজ্য সরকারের শীর্ষ মহলে এবং কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের সঙ্গেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বার্নপুর থেকে বিমান পরিষেবা চালুর পাশাপাশি যদি এই স্বপ্নের ফ্লাইট ট্রেনিং সেন্টার বাস্তবায়িত হয়, তবে পশ্চিম বর্ধমানের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থার মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের এক বিরাট জোয়ার আসবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।