বোরখা পরায় হাসপাতালে তুলকালাম! গাইনোকোলজি লেবার রুমে নার্সিং ইন্টার্নদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার

জম্মুর ডোডার সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নার্সিং ইন্টার্নদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। গাইনোকোলজি বিভাগের লেবার রুমে বোরখা বা মুখ ও শরীর ঢাকা পোশাক পরে ঢোকায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এরপর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ডা. মধু চিবের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ শুরু হয়, যেখানে এক নার্সিং ছাত্রীকে বোরখা পরে থাকার কারণে লেবার রুম থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এর প্রতিবাদে ইন্টার্নরা কাজ বয়কট করে হাসপাতালের চত্বরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
বিক্ষোভকারী এক ইন্টার্ন জানান, লেবার রুমের বাইরে একাধিক ছাত্রীকে একই কারণে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল। আন্দোলনকারীদের মতে, এই ধরনের বাধা তাঁদের ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর সরাসরি হস্তক্ষেপ। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে এই অচলাবস্থার সাময়িক অবসান ঘটেছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট ডা. ইরফান তাসাদুক স্পষ্ট করে জানান যে, লেবার রুম ও অপারেশন থিয়েটারের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মানতে হয়। চিকিৎসকদের পাশাপাশি ইন্টার্নদেরও ঢিলেঢালা পোশাক ঠিকঠাক করে তার ওপর নির্দিষ্ট গাউন পরে কাজ করার নিয়ম রয়েছে।
বিক্ষোভ প্রশমিত হলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ডোডডার বিধায়ক মেহরাজ মালিক স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাকিনা ইতুর কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। অন্যদিকে, ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রধান মুখপাত্র তানভীর সাদিক মন্তব্য করেছেন যে, সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে অবাধে ধর্ম পালনের অধিকার দিয়েছে। একজন মুসলিম মহিলা হিজাব বা বোরখা পরবেন কি না, তা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দ ও স্বাধীনতার বিষয়, তাই এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা অনুচিত।