সামান্য বানান ভুল আর তাতেই বিমানে ওঠার অনুমতি নেই! জানুন বিমানের টিকিটের নাম সংশোধনের কড়া নিয়ম

বিমানের টিকিটে সামান্য নামের ভুল বা গরমিলের জেরে এক যাত্রীকে বিমান থেকে আটকে দেওয়ার ঘটনায় বড় নির্দেশ দিল উপভোক্তা কমিশন। নিউইয়র্ক থেকে দিল্লি ফেরার পথে নামের ভুলের কারণে এক যাত্রীকে বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে তাঁর পরিবারকে বিমান সংস্থার কাউন্টার থেকে ৭১ হাজার ২৪১ টাকা দিয়ে নতুন টিকিট কাটতে হয়। পরে বারবার যোগাযোগ করা সত্ত্বেও টাকা ফেরত না দেওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত বেঙ্গালুরুর উপভোক্তা কমিশন বিমান সংস্থা ও ট্রাভেল সংস্থাকে যৌথভাবে ওই যাত্রীকে প্রায় ৭৯ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই ঘটনা সামনে আসতেই টিকিটে যাত্রীর নাম ও রিফান্ড সংক্রান্ত নিয়মগুলি নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
বিমান সংস্থাগুলির নিয়ম অনুযায়ী, টিকিট বুকিংয়ের সময় দেওয়া যাত্রীর নাম তাঁর অফিশিয়াল পরিচয়পত্রের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মিলতে হবে। সামান্য গরমিল থাকলেও সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে বিমানে উঠতে বাধা দেওয়া হতে পারে। ডোমেস্টিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে আধার কার্ড এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে পাসপোর্টে থাকা ফার্স্ট নেম, মিডল নেম ও লাস্ট নেম টিকিটের সঙ্গে হুবহু মিল থাকা বাধ্যতামূলক।
যদি টিকিটে নামে কোনো ভুল থেকে যায়, তবে তা সংশোধনের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। ‘টাইটেল’ পরিবর্তন, নামের বানান বা অক্ষর অদলবদলের মতো ছোটখাটো ভুলের ক্ষেত্রে দ্রুত বিমান সংস্থা বা এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তা অনেক সময় বিনামূল্যে সংশোধন করা যায়। তবে মিডল নেম যোগ করা বা পদবি বদলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে। অনেক এয়ারলাইন্স বুকিংয়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিনামূল্যে নাম সংশোধনের সুযোগ দিলেও, বিমান ছাড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাধারণত তা পরিবর্তন করা যায় না।
অন্যদিকে, বিমানযাত্রার বাতিল ও রিফান্ডের নিয়মেও বড়সড় পরিবর্তন এনেছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA)। সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত মেনে যাত্রীরা বুকিংয়ের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই টিকিট বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারেন। রিফান্ডের ক্ষেত্রে সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করে ১৪ কর্মদিবসের মধ্যে যাত্রীর টাকা ফেরত দেওয়ার কড়া নির্দেশ রয়েছে।