একদিকে বর্ষার বিদায়ঘণ্টা, অন্যদিকে একাধিক রাজ্যে দুর্যোগের কালো মেঘ! আজ থেকে আবহাওয়া বদলাচ্ছে কোথায় কোথায়?

ক্যালেন্ডারের পাতা অনুযায়ী বর্ষার বিদায়ঘণ্টা বেজে গেলেও আবহাওয়ার মানচিত্র থেকে বর্ষার মেঘ এখনও পুরোপুরি সরে যায়নি। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের আকাশ থেকে বর্ষার মেঘ পুরোপুরি না সরলেও, দেশের অন্যান্য প্রান্ত থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বিদায় নিয়ে বড় খবর দিল আবহাওয়া দফতর। আজ, শনিবার, ৩ অক্টোবর দেশের আবহাওয়ায় এক বিরাট পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)-এর সাম্প্রতিক বুলেটিন অনুযায়ী, উত্তর ও মধ্য ভারতের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু পাকাপাকিভাবে বিদায় নিতে চলেছে।
আইএমডি-র পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে, পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও রাজস্থানের অবশিষ্ট অংশ, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত এবং মধ্যপ্রদেশের অধিকাংশ এলাকা থেকে মৌসুমি বায়ু আরও সরে যাওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শুধু তাই নয়, পাহাড়ি রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের সম্পূর্ণ এলাকা থেকেও বর্ষা সম্পূর্ণভাবে বিদায় নিতে পারে। পাশাপাশি, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ছত্তীসগঢ় এবং মহারাষ্ট্রের কিছু অংশ থেকেও দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু খুব শীঘ্রই বিদায় নেবে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।
তবে দেশের একপ্রান্তে যখন বর্ষার বিদায় পর্ব তুঙ্গে, ঠিক তখনই উত্তর-পূর্ব ভারত ও দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজ্যে বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে। আজ, ৩ অক্টোবর উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য যেমন—অসম, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম এবং ত্রিপুরায় বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝোড়ো বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ ভারতের বেশ কিছু রাজ্যেও বৃষ্টির দাপট বজায় থাকবে। বিশেষ করে তামিলনাড়ু, পুদুচেরি এবং কারাইকাল অঞ্চলে বজ্রপাতসহ বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রঝড়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই সময়ে উপকূলবর্তী অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এছাড়া কেরালা, লাক্ষাদ্বীপ এবং উপকূলীয় কর্ণাটকের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভালো রকমের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে, দেশের একদিকে যখন মনসুন বা বর্ষা বিদায়ের শেষ অঙ্কে পৌঁছেছে, অন্যদিকে দক্ষিণ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অঞ্চলে বৃষ্টির এই লড়াকু মেজাজ আরও কিছুদিন বজায় থাকবে বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।