বাবা ও চালক খুন, এবার পিটিয়ে মারা হল আরএসএস কর্মীকে! স্পিড ব্রেকার বিবাদে রক্তে ভাসল দেওরিয়া

উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়া জেলায় রাস্তা তৈরির একটি স্পিড ব্রেকারকে কেন্দ্র করে ঘটা তুচ্ছ বিবাদ এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে রূপ নিয়েছে। লার থানা এলাকার ভিকম ছাপরা গ্রামে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) কর্মী রামেশ্বর তিওয়ারিকে লাঠি, লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই নৃশংস ঘটনার পর গোটা এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গ্রামে ব্যাপক পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে ইতিমধ্যেই পাঁচটি বিশেষ পুলিশ দল গঠন করা হয়েছে।
পুরনো শত্রুতা ও স্পিড ব্রেকার নিয়ে বিবাদ
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি রামেশ্বর তিওয়ারির বাড়ির কাছে একটি নতুন রাস্তা নির্মাণের সময় সেখানে একটি স্পিড ব্রেকার বসানো হয়। বৃহস্পতিবার রাতে গ্রামেরই বাসিন্দা সঞ্জয় তিওয়ারি ও দীপক তিওয়ারির সঙ্গে এই ব্রেকারটিকে কেন্দ্র করে রামেশ্বরের বচসা শুরু হয়। দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের পুরনো শত্রুতা ছিল বলে অভিযোগ।
বচসার একপর্যায়ে অভিযুক্তরা জোর করে স্পিড ব্রেকারটি ভাঙার চেষ্টা করলে রামেশ্বর তার তীব্র প্রতিবাদ জানান। অভিযোগ রয়েছে, এরপরই ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা দলবল নিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং লাঠি, রড ও হাতুড়ি দিয়ে তাঁকে বেধড়ক পেটায়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট এসএইচও (SHO) সহ চার পুলিশকর্মীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
পরিবারে বাড়ছে চরম নিরাপত্তাহীনতা
নিহত রামেশ্বর তিওয়ারির পরিবারের দাবি, এই হত্যাকাণ্ড আকস্মিক নয়। এর আগেও গত আগস্ট মাসে অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের বিবাদ হয়েছিল এবং সেই সময় রামেশ্বর ও তাঁর পরিবারকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরিবারের আক্ষেপ, সে সময় থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও পুলিশ যদি সময়মতো ও গুরুত্ব সহকারে পদক্ষেপ করত, তবে হয়তো রামেশ্বরের জীবন বাঁচানো সম্ভব হতো। উল্লেখ্য, অতীতে রামেশ্বরের বাবা এবং তাঁদের পরিবারের একজন চালককেও একইভাবে খুন করা হয়েছিল। পরপর এই ধরনের ঘটনায় ভিকম ছাপরা গ্রামের ওই পরিবারটির নিরাপত্তা নিয়ে এখন চরম প্রশ্নচিহ্ন ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার গোরখপুর রেঞ্জের ডিআইজি এস. চিন্নাপ্পা নিজে ভিকাম ছাপড়া গ্রামে পৌঁছান। তিনি শোকস্তব্ধ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে পুরো ঘটনার খোঁজখবর নেন এবং খুব শীঘ্রই সমস্ত অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনার কড়া আশ্বাস দিয়েছেন।