ককপিটে রক্তারক্তি, পাইলটকে কোপাচ্ছে কো-পাইলট! ৬ বছরের ছোট্ট মেয়ের এক চিৎকারে প্রাণে বাঁচলেন ১৮০ জন যাত্রী

আকাশপথে এক অবিশ্বাস্য ও রোমহর্ষক ঘটনার সাক্ষী থাকল বিশ্ব। দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে ওমানি সহ-পাইলটের অতর্কিত হামলায় গুরুতর আহত হন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। ককপিটের ভেতরে রক্তারক্তি কাণ্ডের মাঝেও নিজের জীবন বাজি রেখে বিমানটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন তিনি। তবে শুধু ক্যাপ্টেনই নন, ওই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বিমানে থাকা ৬ বছরের একটি ছোট্ট মেয়ের সাহসিকতা ও সময়োপযোগী ভূমিকা না থাকলে বড়সড় বিপর্যয় ঘটে যেতে পারত। আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে এই ঘটনার প্রতিটি মুহূর্ত।

ঠিক কী ঘটেছিল আকাশে?

ফ্লাইট এফজেড ১০৭৩ যখন আকাশে উড়ছিল, সেই সময় হঠাৎই ওমানি কো-পাইলট ধারালো ছুরি নিয়ে হামলা চালান ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর। ‘দ্য সান’ পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মারাত্মক ধস্তাধস্তির জেরে বিমানটি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং মাত্র ৯০ সেকেন্ডের মধ্যে প্রায় ১৭,৪০০ ফুট নিচে নেমে যায়। ককপিটের ভেতর তখন চলছে জীবন-মৃত্যুর লড়াই। ঠিক সেই মুহূর্তে প্রকৃতির নিয়মে প্রকৃতির ত্রাতা হয়ে ওঠে ছয় বছরের শিশু নিনা মানেস।

নিনার মা তালি মানেস ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, ঘটনার সময় ছোট্ট নিনা তাঁকে শৌচাগারে নিয়ে যাওয়ার আবদার করে। মায়ের সঙ্গে যাওয়ার পথেই ককপিটের ভেতর থেকে অদ্ভুত চিৎকার ও ধস্তাধস্তির শব্দ শুনতে পায় সে। মায়ের নজরে সেই অস্বাভাবিকতা আসার আগেই শিশুটির তৎপরতা কেবিন ক্রু ও যাত্রীদের সতর্ক করে দেয়।

রক্তাক্ত ককপিটে যাত্রীদের ছুটে যাওয়া

ককপিটের দরজা খোলার পর চারপাশ রক্তে ভেসে যাওয়ার দৃশ্য দেখে চমকে ওঠেন যাত্রীরা। নিনার বাবা জীবিকা মানেস জানান, মেয়ের ভয় পাওয়ার কান্না এবং ‘আমি মরতে চাই না’ এই আর্তনাদই তাঁকে ককপিটের দিকে ছুটে যেতে বাধ্য করে। তিনি সহযাত্রীদের নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় আক্রমণকারী কো-পাইলটকে কাবু করে ফেলেন। গুরুতর জখম হওয়া সত্ত্বেও ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার শেষ মুহূর্তে ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ায় যাত্রীরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সুযোগ পান।

ফ্লাইদুবাইয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই চরম সংকটের পরও বিমানে থাকা অন্য এক পাইলট সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন এবং সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে সেটিকে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করান। ভারতীয় ক্যাপ্টেনের অদম্য জেদ এবং ৬ বছরের এক শিশুর আকস্মিক বুদ্ধিমত্তায় সেদিন বেঁচে যায় ১৮০ জন নিরপরাধ যাত্রীর প্রাণ।