দুশ্চিন্তার কারণে কি বুকজ্বালা বা গ্যাসের সমস্যা বাড়ে? চিকিৎসকরা যা বলছেন জানলে চমকে যাবেন!

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বা অনিয়মিত হজম প্রক্রিয়াকে সাধারণত অ্যাসিডিটির প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসকদের ভাবিয়ে তুলেছে—অ্যাসিডিটি এবং অতিরিক্ত উদ্বেগের মধ্যে কি কোনো গভীর যোগসূত্র রয়েছে? আপাতদৃষ্টিতে মানসিক চাপ বা অস্থিরতার সঙ্গে পেটের অস্বস্তির কোনো সরাসরি মিল না থাকলেও, এই দুয়ের মধ্যে একটি জটিল ও নিবিড় শারীরিক সম্পর্ক রয়েছে। এই বিষয়ে টিভি৯ বাংলার পক্ষ থেকে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন কৈলাশ হাসপাতালের কনসালট্যান্ট গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডঃ অক্ষয় রাওয়াত।

চিকিৎসকদের মতে, সরাসরি দুশ্চিন্তা থাকলেই যে পাকস্থলীতে অ্যাসিডের উৎপাদন অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাবে, বিষয়টি সবসময় এমন নয়। তবে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ বা উদ্বেগ মানুষের স্বাভাবিক হজম প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এর ফলে পাকস্থলী এবং খাদ্যনালীর অভ্যন্তরে তীব্র অস্বস্তি তৈরি হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা দেখা দেয়। সহজ কথায় বলতে গেলে, মানুষ যখন চরম উদ্বেগের মধ্যে থাকে, তখন তার শরীর একটি নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষামূলক বা মানসিক চাপের অবস্থার মধ্য দিয়ে যায়। এই অভ্যন্তরীণ চাপ হজম প্রক্রিয়া এবং পাকস্থলীর মধ্য দিয়ে খাদ্যের স্বাভাবিক গতিবিধিকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। পাশাপাশি, মানসিক চাপের কারণে মানুষের মস্তিষ্ক পাকস্থলী থেকে আসা স্নায়বিক সংকেতের প্রতি অনেক বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। ফলে সামান্য পরিমাণ অ্যাসিড রিফ্লাক্সও কখনও কখনও তীব্র বুকজ্বালা বা যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সাধারণত পাকস্থলীর খাবার বা পাচক রস যখন বিপরীত পথে খাদ্যনালীতে ফিরে আসে, তখন তাকে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বলা হয়। এর জেরে মুখে টক স্বাদ, ঘন ঘন ঢেকুর ওঠা এবং বুকে জ্বালাপোড়ার মতো কষ্টদায়ক উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে সবসময় যে উদ্বেগই অ্যাসিডিটির একমাত্র কারণ হয়, তা নয়। অতিরিক্ত খাওয়া, গভীর রাতে ভারী খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত মশলাদার বা ভাজাপোড়া খাবার খাওয়া, ধূমপান করা, শরীরের অতিরিক্ত ওজন এবং কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকেও রিফ্লাক্সের সমস্যা বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। মজার বিষয় হলো, অ্যাসিডিটি নিজেই শারীরিক ও মানসিক অস্বস্তি বাড়িয়ে দিতে পারে, যা পরবর্তীতে উদ্বেগকে আরও তীব্র করে তোলে। অর্থাৎ, এই দুটি সমস্যা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে এবং পারস্পরিক সমস্যাকে ক্রমাগত বাড়িয়ে চলে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু উপসর্গ দেখা দিলে আর অবহেলা করা উচিত নয়। আপনার যদি ঘন ঘন অ্যাসিড রিফ্লাক্স, খাবার গিলতে মারাত্মক অসুবিধা, ক্রমাগত বমি হওয়া, বমির সঙ্গে রক্তপাত, কালো মল কিংবা কোনো কারণ ছাড়াই দ্রুত ওজন হ্রাসের মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া, যদি কখনো তীব্র বুক ব্যথার সঙ্গে অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট, অকারণে ঘাম হওয়া বা সেই ব্যথা হাত ও চোয়ালে ছড়িয়ে পড়ার মতো উপসর্গ দেখা যায়, তবে তা হৃদরোগের লক্ষণ হতে পারে এবং তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিতে হবে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty