৫ বছরের লাভ উধাও! পলিসিবাজারের শেয়ারে ধস নামতেই কপালে হাত বিনিয়োগকারীদের

শেয়ার বাজারের নিয়মকানুনের সামান্য পরিবর্তন কীভাবে নিমেষে একটি লাভজনক কোম্পানির ব্যবসাকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে, তার এক জলজ্যান্ত উদাহরণ তৈরি করল পিবি ফিনটেক (PB Fintech)। পলিসিবাজার নামে ব্যাপকভাবে পরিচিত এই জনপ্রিয় অনলাইন প্ল্যাটফর্মের শেয়ার বর্তমানে মারাত্মক পতনের মুখে পড়েছে। মাত্র ছ’টি ট্রেডিং সেশনের ঝড়ে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম এমনভাবে তলিয়ে গেছে যে দীর্ঘ পাঁচ বছরের সমস্ত লভ্যাংশ নিমেষে ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে। গত ১ অক্টোবর শেয়ারটির দরপতন এমন জায়গায় পৌঁছয় যে তা একেবারে আইপিও-র (IPO) প্রাথমিক ইস্যু মূল্যের নিচে নেমে আসে। বাজারের এই আকস্মিক পরিস্থিতি বিনিয়োগ মহলে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

গত ১ অক্টোবর পিবি ফিনটেকের শেয়ারের দাম প্রায় ৮ শতাংশ কমে ৯৮৪ টাকায় এসে ঠেকে। এমনকি লেনদেন চলাকালীন এর দাম ৯৮০ টাকারও নিচে নেমে গিয়েছিল, যা কোম্পানির আইপিও মূল্য। এই রেকর্ড পতনের জেরে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে শেয়ারটির দাম ১৭ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। গত ২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি এই স্টকটি তার সর্বকালীন উচ্চস্তর ২,২৫৪ টাকায় পৌঁছেছিল। সেখান থেকে লাগাতার ওঠানামার পর সাম্প্রতিক এই ধস এটিকে বিনিয়োগকারীদের জন্য চরম লোকসানের মুখে ফেলে দিয়েছে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আকস্মিক ধসের নেপথ্যে রয়েছে ইন্স্যুরেন্স রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (IRDAI)-এর একটি নতুন প্রস্তাব। সম্প্রতি বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি একটি পরামর্শপত্র পেশ করেছে, যেখানে পলিসি বিক্রির কমিশন কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ম বাস্তবায়িত হলে তা সরাসরি বীমা কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটর এবং এজেন্টদের আয়ের ওপর আঘাত হানবে। যেহেতু পিবি ফিনটেকের আয়ের একটি সিংহভাগ অংশ আসে বিভিন্ন বীমা পলিসি বিক্রির মাধ্যমে, তাই নতুন নিয়মের খড়্গ এই কোম্পানির ব্যবসাকে বড় ধাক্কা দিতে পারে। এই আশঙ্কাই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।

টানা বিক্রির চাপে পিবি ফিনটেকের স্টক নিয়ে নিজেদের অবস্থান বদল করতে বাধ্য হয়েছে শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ ফার্মগুলিও। এইচএসবিসি (HSBC) এই স্টকটির রেটিং ‘বাই’ থেকে নামিয়ে ‘হোল্ড’-এ নিয়ে এসেছে। দোলাত ক্যাপিটাল এক পা বাড়িয়ে এর রেটিং সরাসরি ‘সেল’-এ অবনমিত করেছে। পাশাপাশি, ম্যাকোয়ারিও এর রেটিং ‘নিউট্রাল’-এ নামিয়ে এনেছে। এই তিনটি প্রধান ব্রোকারেজ হাউজই পিবি ফিনটেকের জন্য ১১৫০ টাকার একটি নতুন টার্গেট প্রাইস নির্ধারণ করেছে। এই অবনমন স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে অদূর ভবিষ্যতে এই শেয়ারের ঘুরে দাঁড়ানো অত্যন্ত কঠিন হতে চলেছে।

উল্লেখ্য, প্রায় পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালে পিবি ফিনটেক তাদের আইপিও বাজারে আনে। সে সময় কোম্পানিটি ২ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ার ৯৮০ টাকায় ইস্যু করেছিল। স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির সময়ই এটি দুর্দান্ত প্রিমিয়াম পেয়েছিল। ২০২৩ সাল থেকে এর ঊর্ধ্বমুখী চাল বিনিয়োগকারীদের মুখে হাসি ফোটালেও, নীতিগত পরিবর্তনের সামান্য ধাক্কায় সেই সমস্ত অর্জন আজ ধ্বংসের মুখে। দীর্ঘমেয়াদী লাভের আশায় যারা এই আইপিও-তে পুঁজি ঢেলেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁরা বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।