“ভোটার তালিকা থেকে বাদ ১ কোটি ৩৭ লক্ষ নাম!” নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে বিরোধীদের মেগা বিক্ষোভ

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে শুক্রবার যন্তর মন্তরে আপ ও যুব কংগ্রেসের তীব্র বিক্ষোভের জেরে রাজধানী দিল্লিতে তৈরি হলো এক ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। পূর্বঘোষিত এই বিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য দিল্লি পুলিশ কোনও ধরনের অনুমতি দেয়নি। এর জেরে নয়াদিল্লির নির্দিষ্ট এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল।

নির্দিষ্ট সময়ে সমাবেশ শুরু হওয়ার আগেই গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। আপ-এর মুখপাত্র সৌরভ ভরদ্বাজসহ একাধিক নেতা ও বিক্ষোভকারীকে পুলিশ জোর করে আটক করে। পুলিশি বলপ্রয়োগের তীব্র সমালোচনা করে আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ বিক্ষোভকারীদের ভীত না হওয়ার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, ভোটার তালিকা ও নির্বাচন পরিচালনায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছে বিরোধীরা। এদিনের এই বিক্ষোভে আম আদমি পার্টির পাশাপাশি ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেসের সদস্য, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। দিল্লির প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়া, মন্ত্রী অতিশী এবং আপ সাংসদ সঞ্জয় সিং সাধারণ মানুষকে যন্তর মন্তরে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সঞ্জয় সিংয়ের অভিযোগ, এসআইআর (SIR)-এর নামে ভোটার তালিকা থেকে ১ কোটি ৩৭ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা ও জনরোষের জেরে দিল্লির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন—যেমন জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, রাজীব চক, মান্ডি হাউস, লোক কল্যাণ মার্গ, আইএনএ, চাউরি বাজার, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ এবং নয়াদিল্লি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। তবে নির্দিষ্ট কিছু স্টেশনে ইন্টারচেঞ্জের সুবিধা চালু রাখা হয়েছিল। কর্তৃপক্ষের কড়া নির্দেশিকা ও পুলিশি ধরপাকড়ের মধ্যেও রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে রয়েছে।