ফ্রিতে কাজ করানোর সময় শেষ! শিশুদের এই সরকারি নথি আপডেট না করালে হতে পারে মারাত্মক সমস্যা

শিশুদের ‘বাল আধার’ বিনামূল্যে আপডেট করানোর নির্ধারিত সময়সীমা গত ৩০ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে পেরিয়ে গিয়েছে। ভারতীয় উদপ্রযুক্ত ও ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (UIDAI) এ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আপডেট সামনে এনেছে। যাঁরা এতদিন নানা কারণে সন্তানের আধার কার্ড আপডেট করার বিষয়টি ফেলে রেখেছিলেন, তাঁদের এখন থেকে আর্থিক খরচের মুখে পড়তে হবে। ভারতীয় পরিচয়ের অন্যতম প্রধান নথি হিসেবে আধার কার্ড ৮ থেকে ৮০—সকলের জন্যই অপরিহার্য। তবে বড়দের তুলনায় ছোটদের আধারের নিয়ম কিছুটা আলাদা হওয়ায় শিশুদের জন্য তৈরি হয় ‘বাল আধার’।

নিয়ম অনুযায়ী, ৫ বছরের কম বয়সি শিশুদের আধার তৈরির সময় ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আইরিশ স্ক্যানের মতো বায়োমেট্রিক তথ্যের প্রয়োজন হয় না। ফলে খুব ছোট বয়সে আধার তৈরি করা তুলনামূলক সহজ। কিন্তু শিশুর বয়স ৫ বছর পূর্ণ হলেই প্রথমবার বায়োমেট্রিক আপডেট বাধ্যতামূলক হয়ে ওঠে। এরপর ১৫ বছর বয়স হলে দ্বিতীয়বার আবার আপডেট করাতে হয়। এই বায়োমেট্রিক আপডেটের মাধ্যমে আঙুলের ছাপ, চোখের স্ক্যান এবং ছবি নতুন করে নথিভুক্ত করা হয়। এতদিন ৫ থেকে ৭ এবং ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সি শিশুদের এই বাধ্যতামূলক বায়োমেট্রিক আপডেট সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করানোর সুযোগ ছিল।

তবে সেই ডেডলাইন পেরিয়ে যাওয়ায় এখন আর সেই সুবিধা মিলছে না। ৩০ সেপ্টেম্বরের পর থেকে বায়োমেট্রিক আপডেট করাতে গেলে ১২৫ টাকা ফি দিতে হবে। অন্যদিকে, বায়োমেট্রিকের পাশাপাশি বা আলাদাভাবে নাম, ঠিকানা কিংবা জন্মতারিখের মতো ডেমোগ্রাফিক তথ্য পরিবর্তন করতে হলে প্রতিটি আপডেটের জন্য ৭৫ টাকা খরচ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, শিশুদের আধার কার্ড সময়মতো আপডেট না করালে স্কুল-কলেজে ভর্তি, বৃত্তি পাওয়া, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা এবং বিভিন্ন পরীক্ষার সময় পরিচয় যাচাইয়ে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই অযথা ঝামেলা ও অতিরিক্ত খরচ এড়াতে দ্রুত নিকটবর্তী আধার সেবা কেন্দ্রে গিয়ে সন্তানের বায়োমেট্রিক আপডেট করিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।