সিবিএসই দশম শ্রেণির পরীক্ষায় বড় স্বস্তি! পাসের নিয়মে বড় বদল এনে কোন বড় সিদ্ধান্ত নিল বোর্ড?

কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড (সিবিএসই) ২০২৭ সালে দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী কোটি কোটি শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের জন্য একটি অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক ও বড় ঘোষণা করেছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ তাদের পূর্বের পাস করার মানদণ্ড সংক্রান্ত সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এর ফলে ২০২৭ সালের দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় পাসের নিয়মে বড়সড় পরিবর্তন আসায় যে জটিলতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত কাটল। সিবিএসই স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, পরীক্ষার্থীদের জন্য মোট ৩৩ শতাংশ নম্বর পাওয়ার পুরোনো নিয়মই বহাল থাকছে।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সিবিএসই ঘোষণা করেছিল যে, ২০২৭ সালের দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের প্রতিটি পৃথক বিষয়ে অন্তত ৩৩ শতাংশ নম্বর পেতেই হবে। অর্থাৎ, বাহ্যিক (এক্সটার্নাল) এবং অভ্যন্তরীণ (ইন্টারনাল) মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পৃথকভাবে ৩৩% নম্বর পাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। এর আগে সিবিএসই-র বেশিরভাগ বিষয়ের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে ৮০-২০ ওয়েটেজ ফর্মুলা ব্যবহৃত হতো, যেখানে বোর্ড পরীক্ষার জন্য ৮০ এবং স্কুল মূল্যায়নের জন্য ২০ নম্বর বরাদ্দ থাকত। পুরোনো নিয়মে আলাদাভাবে নয়, বরং উভয় মিলিয়ে সামগ্রিকভাবে মোট ৩৩ শতাংশ নম্বর পেলেই ছাত্রছাত্রীরা উত্তীর্ণ বলে বিবেচিত হতেন।

কিন্তু সম্প্রতি সিবিএসই একটি নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দিয়েছে যে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য এবং ২০২৭ সালের বোর্ড পরীক্ষার ক্ষেত্রে পুরোনো পাসের মানদণ্ডই বজায় রাখা হবে। অর্থাৎ, প্রশ্নপত্রের নকশা ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে আপাতত কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। শিক্ষামহল সূত্রে খবর, এই সিদ্ধান্ত বদলের পেছনে মূল কারণ ছিল ‘অন-স্ক্রিন মার্কিং’ (ওএসএম) বা ডিজিটাল মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক। গত বছর দ্বাদশ শ্রেণির উত্তরপত্র ওএসএম পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটির মুখে পড়েছিল বোর্ড। যার জেরে ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হয় এবং পাসের হারও আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দশম শ্রেণিতেও যদি এই কড়া পাসের নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হতো, তবে পাসের হার আরও মারাত্মকভাবে নেমে যেতে পারত। সেই বড় বিপর্যয় ও ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই সিবিএসই তাদের পূর্বনির্ধারিত কঠোর সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এসেছে।