“সব অস্ত্র ব্যবহার করতে বাধ্য হব!”-NATO-কে খোলাখুলি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন পুতিন!

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আবহে বিশ্ব রাজনীতিতে ফের চরম উত্তেজনার পারদ চড়ালেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। প্রয়োজন হলে কালিনিনগ্রাদ বা রাশিয়ার যে কোনও ভূখণ্ড রক্ষায় কুণ্ঠাবোধ না করে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার ভদলাই ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুতিনের এই বিস্ফোরক মন্তব্যে শোরগোল পড়ে গেছে পশ্চিমী দেশগুলিতে।
পুতিনের কড়া বার্তা: “সব অস্ত্র ব্যবহার করা হবে”
মস্কোয় আয়োজিত ভালদাই ফোরামে পুতিন দাবি করেন যে, ইউরোপের কোনও দেশকে আক্রমণ করার বিন্দুমাত্র পরিকল্পনা রাশিয়ার নেই এবং মস্কো সর্বদা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাসী। তবে একইসঙ্গে তিনি কড়া সুরে সতর্ক করে বলেন, কালিনিনগ্রাদ বা রাশিয়ার ওপর সরাসরি কোনও আক্রমণ হলে মস্কো হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না।
পুতিনের স্পষ্ট কথা, “রাশিয়ান ফেডারেশনের ওপর সরাসরি হামলা হলে—বিশেষ করে কালিনিনগ্রাদ বা অন্য যে কোনও জায়গায়—আমাদের হাতে থাকা সমস্ত অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি অবধারিতভাবে দ্রুত সামনে আসবে।”
কালিনিনগ্রাদের ভূকৌশলগত গুরুত্ব ও ন্যাটোর প্রতিক্রিয়া
উল্লেখ্য, রাশিয়ার একেবারে পশ্চিমে অবস্থিত কালিনিনগ্রাদ অঞ্চলটি পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মতো ন্যাটো (NATO) সদস্য দেশগুলির ঠিক মাঝে অবস্থিত। এই অঞ্চলে রাশিয়ার সামরিক শক্তি অত্যন্ত শক্তিশালী। পুতিনের হুঁশিয়ারি, রাশিয়া যেমন ন্যাটোর সামরিক শক্তি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল, তেমনই মস্কোর হাতে এমন কিছু ধ্বংসাত্মক অস্ত্র রয়েছে যা তাদের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখে।
ইতিমধ্যেই ন্যাটোর কাছে রাশিয়ার একটি কূটনৈতিক নোট পৌঁছানোর পরই এই পারমাণবিক হুঁশিয়ারি সামনে এসেছে, যেখানে কালিনিনগ্রাদকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা হলে পরমাণু অস্ত্র প্রয়োগের প্রস্তুতি থাকার কথা বলা হয়েছিল। এই হুমকির জবাবে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুট মন্তব্য করেছেন যে, ন্যাটো একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট এবং পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের এই ধরনের হুমকি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
২০২২ সালে ইউক্রেন সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই রাশিয়া ও পশ্চিমী দেশগুলির সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। পুতিনের এই নতুন হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও কোন ভয়ংকর মোড়ের দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার!