৫০০০ টাকার জিনিসে ২০ টাকা অতিরিক্ত? ৭৬ শতাংশ ইউজার UPI ছেড়ে দিতে পারে, সার্ভেতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

আজকাল পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করার দিন শেষ। দোকানে ৫ হাজার টাকার জিনিস কিনে মোবাইল বের করে কিউআর কোড স্ক্যান করলেই পেমেন্ট মিটে যায়। কিন্তু দোকানদার যদি আপনাকে বলেন যে ইউপিআই (UPI) ব্যবহার করে পেমেন্ট করার জন্য আপনাকে অতিরিক্ত ২০ টাকা দিতে হবে, তখন আপনি কী করবেন? এমন পরিস্থিতিতে হয় আপনাকে অতিরিক্ত টাকাটা দিয়ে ইউপিআই ব্যবহার করতে হবে, কিংবা নগদ টাকা বা কার্ডের মতো অন্য কোনও বিকল্প বেছে নিতে হবে। আসন্ন ১৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হতে চলা ইউপিআই পেমেন্টের নতুন এমডিআর (MDR) নিয়ম নিয়ে এখন দেশজুড়ে এমনই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নতুন এমডিআর নিয়ম ও জরিমানার হিসেব নতুন ব্যবস্থা অনুযায়ী, ২,০০০ টাকার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে মার্চেন্টদের ওপর ০.৪ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (MDR) প্রযোজ্য হতে চলেছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে এই ফি কোনওভাবেই গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া যাবে না এবং এর সম্পূর্ণ খরচ ব্যবসায়ীদেরই বহন করতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, ব্যবসায়ীরা যদি এই খরচ দিতে অস্বীকার করেন এবং গ্রাহকদের পকেট থেকে অতিরিক্ত টাকা কাটতে শুরু করেন, তবে সাধারণ মানুষ কী করবে? এই নিয়মের ফলে ১,৫০০ টাকার কম দৈনন্দিন লেনদেন প্রভাবিত না হলেও ইলেকট্রনিক্স, আসবাবপত্র, রেস্তোরাঁ কিংবা বড় কেনাকাটার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচের বোঝা বাড়তে পারে। ৭৫,০০০ টাকা বা তার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে এই ফি সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে পিটুপি (P2P) অর্থাৎ বন্ধু বা পরিবারকে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনও চার্জ লাগবে না।

সমীক্ষায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য লোকালসার্কেলস-এর (LocalCircles) সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষায় ২৯১টি জেলার ৬৭,০০০-এরও বেশি ইউপিআই ব্যবহারকারীর মতামত নেওয়া হয়েছে। সেই রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, দোকানদাররা যদি ২,০০০ টাকার বেশি পেমেন্টে অতিরিক্ত এমডিআর চার্জ দিতে বলেন, তবে মাত্র ১৪ শতাংশ মানুষ সেই বাড়তি খরচ নিজেরা বহন করে ইউপিআই চালিয়ে যেতে রাজি আছেন। বাকি ৭৬ শতাংশ মানুষ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে তাঁরা ইউপিআই ছেড়ে নগদ টাকা, ক্রেডিট-ডেবিট কার্ড বা ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের মতো পুরনো পদ্ধতিতে ফিরে যাবেন অথবা কেনাকাটাই স্থগিত রাখবেন। এর অর্থ দাঁড়াল, প্রতি চারজন ব্যবহারকারীর তিনজনই ইউপিআই থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন।

ব্যবসায়ীদের দৃষ্টিভঙ্গি কী? অন্যদিকে, ব্যবসায়ীদের মনোভাবও যথেষ্ট উদ্বেগের। প্রায় ৩৩ হাজার ব্যবসায়ীর ওপর চালানো সমীক্ষায় মাত্র ১৭ শতাংশ দোকানদার ০.৪ শতাংশ এমডিআর নিজেরা বহন করতে ইচ্ছুক বলে জানিয়েছেন। প্রায় ৪১ শতাংশ ব্যবসায়ী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে তাঁরা কোনওভাবেই এই এমডিআর দেবেন না। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের অগাস্ট মাসে একা ইউপিআই-এর মাধ্যমেই ২৪.৫১ বিলিয়ন লেনদেন হয়েছিল, যার পরিমাণ ছিল প্রায় ২৯.৮২ লক্ষ কোটি টাকা। ফলে এই বিপুল ডিজিটাল লেনদেনের বাজারে নতুন নিয়ম কীভাবে প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।