“কয়েক মাসের মধ্যে Food Crisis?”-ভারতের জন্য কোন বড় বিপদের বার্তা দিলেন জয়শঙ্কর?

যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে কি তবে মাথাচাড়া দিচ্ছে এক ভয়াবহ খাদ্যসঙ্কট? সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক কিছু সতর্কবার্তা। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে মানবতার সামনে জোড়া সঙ্কট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা—যার একটি খাদ্য এবং অন্যটি জ্বালানি। মার্চ-এপ্রিল মাসে যুদ্ধের উত্তাপের জেরে জ্বালানি তেল আমদানির প্রশ্নটি যেভাবে সামনে এসেছিল, বর্তমানে সেই সংকট আরও ডালপালা মেলে ছড়িয়ে পড়েছে খাদ্যশস্য, সার এবং অর্থনীতির অন্যান্য ক্ষেত্রেও।
জ্বালানি ও পরিবহণ খরচের ধাক্কা ভারত নিজের প্রয়োজনের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে বিশ্ববাজারে দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানির দাম চড়া থাকলে তার মারাত্মক প্রভাব পড়ে ঘরোয়া অর্থনীতিতে। শুধু যানবাহনের পেট্রোল-ডিজেল নয়, শাকসবজি আনা-নেওয়া করা ট্রাক থেকে শুরু করে অনলাইন অর্ডারের ডেলিভারি বা কারখানায় কাঁচামাল পৌঁছানো—সবকিছুর সঙ্গেই পরোক্ষভাবে জ্বালানি যুক্ত। স্বাভাবিকভাবেই ডিজেল-পেট্রলের দাম বাড়লে হাত পুড়বে সাধারণ মানুষেরও।
সারের জোগান ও খাদ্যশস্যের সঙ্কট বিশ্বের সার বাণিজ্যের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। সংঘাতের জেরে এই অঞ্চলগুলিতে প্রভাব পড়ায় ডিএপি-র মতো প্রয়োজনীয় সারের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেছে। পাশাপাশি, সার তৈরির প্রধান কাঁচামাল প্রাকৃতিক গ্যাসের জোগান ব্যাহত হওয়ায় মার খাচ্ছে উৎপাদনও। কৃষিকাজ কোনো চটজলদি বিষয় নয়; নির্দিষ্ট সময়ে ফসলে সার প্রয়োগ না করতে পারলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে ফলনের ওপর। এর পাশাপাশি ভারত তার ভোজ্যতেলের চাহিদার দুই-তৃতীয়াংশ বিদেশ থেকে আমদানি করায়, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার ফলে গত এক বছরে দেশে ভোজ্যতেলের দামও প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভারতের ওপর কতটা প্রভাব পড়বে? আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেলেও, কৃষকদের সুরক্ষায় সরকার বিপুল পরিমাণে ভর্তুকি দিয়ে চলেছে। কিন্তু এই অতিরিক্ত খরচের চাপ শেষ পর্যন্ত দেশের রাজকোষ এবং অর্থনীতির ওপরই বিশাল প্রভাব ফেলে। যদিও রাতারাতি দেশ থেকে সমস্ত খাদ্যশস্য ফুরিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, তবুও বিদেশমন্ত্রীর এই সতর্কবার্তাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েই দেখছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।