২ অক্টোবর কেন বন্ধ থাকে মদের দোকান? মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে ‘ড্রাই ডে’-র এই যোগসূত্র জানলে চমকে যাবেন!

প্রতি বছর ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিন দেশের প্রায় সমস্ত রাজ্যে মদের দোকান, বার এবং রেস্তোরাঁয় অ্যালকোহল বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। একেই মূলত ‘ড্রাই ডে’ বা শুষ্ক দিবস বলা হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ঠিক কী কারণে মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিবসে এই বিশেষ নিয়ম মানা হয় এবং এর নেপথ্যেই বা কোন ঐতিহাসিক ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট লুকিয়ে রয়েছে?
গান্ধীজি এবং নশাভারতীর ভাবনা
মহাত্মা গান্ধী আজীবন মদের তীব্র বিরোধী ছিলেন। তাঁর স্পষ্ট অভিমত ছিল যে, মদ মানুষের চিন্তাশক্তি কেড়ে নেয়, সংসার ধ্বংস করে এবং গরিব মানুষকে আরও বেশি আর্থিক সঙ্কটের মুখে ঠেলে দেয়। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় তিনি নশা আন্দোলন বা মদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রচারকে নিজের আন্দোলনের একটি অন্যতম প্রধান অঙ্গ করে তুলেছিলেন। অসহযোগ আন্দোলনের সময় মদের দোকানের সামনে পিকেটিং বা ধর্না দেওয়ার মতো কর্মসূচিও পালন করা হয়েছিল। বাপুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং তাঁর আদর্শকে সম্মান জানিয়েই পরবর্তীকালে তাঁর জন্মজয়ন্তীতে মদের দোকান বন্ধ রাখার এই ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।
সংবিধানের নির্দেশিকা এবং ড্রাই ডে-র নিয়ম
ভারতের সংবিধানের ৪৭ নম্বর অনুচ্ছেদে রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতিতে (Directive Principles) স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, জনস্বাস্থ্য উন্নত করতে সরকার মদ এবং শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক নেশাদ্রব্যের সেবন নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করবে। তবে এটি কোনো বাধ্যতামূলক আইন নয়, বরং সরকারের জন্য একটি বিশেষ পথনির্দেশ।
উল্লেখ্য, ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী অ্যালকোহল বা মদের ব্যবসা সম্পূর্ণভাবে ‘রাজ্য তালিকা’ বা State List-এর অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ, কোন দিন ড্রাই ডে হবে বা মদের লাইসেন্স কীভাবে দেওয়া হবে, তা পুরোপুরি সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলি নির্ধারণ করে। এই কারণেই স্বাধীনতার পর থেকে গুজরাট, বিহার, নাগাল্যান্ডের মতো কিছু রাজ্যে সারা বছরই সম্পূর্ণ মদ নিষিদ্ধ রয়েছে। ফলে ওই রাজ্যগুলিতে গান্ধী জয়ন্তীর জন্য আলাদা করে ড্রাই ডে ঘোষণা করার প্রয়োজন হয় না। অন্যদিকে, অন্যান্য রাজ্যে বছরের শুরুতেই আবकारी নীতি অনুযায়ী ড্রাই ডে-র তালিকা প্রকাশ করা হয়, যা অত্যন্ত কড়াকড়িভাবে পালন করা হয়।