স্টেনোগ্রাফার নেই তো কী হয়েছে! অবসরের আগের দিন নিজ হাতে ১৫৯টি রায় লিখে রেকর্ড গড়লেন বিচারপতি

রাজস্থানের বিচারব্যবস্থায় এক বিরল ও চাঞ্চল্যকর দৃষ্টান্ত স্থাপন করে অবসর নিলেন কমার্শিয়াল কোর্টের বিচারপতি দীনেশ গুপ্ত। স্টেনোগ্রাফারের অভাব এবং একের পর এক প্রশাসনিক বদলির মতো কঠিন প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েও যেভাবে তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন, তা এখন জাতীয় স্তরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
স্টেনোগ্রাফার না থাকায় হাতে লেখা ১৫৯টি রায়
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৩ অগাস্ট। বকেয়া বেতন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বিচারপতির আদালতের স্টেনোগ্রাফার পদত্যাগ করেন। এরপর রাজ্য সরকারের তরফে তাঁর জায়গায় নতুন কোনো স্টেনোগ্রাফার নিয়োগ করা হয়নি। এমতাবস্থায় বিচারকাজ থেমে থাকেনি। বিচারপতি দীনেশ গুপ্ত তাঁর অবসরের আগের দিন পর্যন্ত একটানা নিজ হাতে ১৫৯টি রায় লিখে নজির গড়েন।
বদলি বিতর্ক ও সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ
একটি ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার পরেই তাঁকে প্রথমে জয়পুর থেকে বেওয়ার এবং পরে জালোরে বদলি করা হয়। অবসরের মাত্র কয়েকমাস আগে বারবার এই বদলিকে ‘হয়রানি’ উল্লেখ করে হাইকোর্টের প্রশাসনিক নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। বিচারপতি গুপ্তার সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা, স্বাস্থ্যগত সমস্যা এবং জয়পুরে তাঁর চিকিৎসার বিষয়টি বিবেচনা করে শীর্ষ আদালত হাইকোর্টকে সহানুভূতিশীল হওয়ার নির্দেশ দেয়, যার জেরে তাঁকে পরে জয়পুর শ্রম আদালতে বদলি করা হয়।
এছাড়া, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের অবসরের বয়স ৬০ থেকে বাড়িয়ে ৬২ বছর করার দাবিতেও একটি মামলা দায়ের করেছেন তিনি, যার পরবর্তী শুনানি রয়েছে আগামী ৫ অক্টোবর। तमाम প্রতিকূলতার মাঝেও এক বিচারপতির এই আপসহীন লড়াই বিচারব্যবস্থায় সততা ও নিষ্ঠার এক অনন্য বার্তা দিল।