কেরিয়ারের চরম চোটে ছাড়তে হয়েছিল কুস্তি, সেই ছেলেই আজ এশিয়ান গেমসে রুপো জিতে কাঁপিয়ে দিলেন বিশ্ব!

এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর কুস্তির ম্যাটে এক ঐতিহাসিক ও রোমাঞ্চকর অধ্যায় রচনা করলেন ভারতের গ্রেকো-রোমান কুস্তিগীর নিतेश সিवाচ (Nitesh Siwach)। ৯৭+ কেজি ওজন বিভাগে ফাইনালে জাপানের ইউরি নাকাজাতোর কাছে অল্পের জন্য সোনা হাতছাড়া হলেও, রুপো জিতে তিনি ভেঙে দিয়েছেন ৬৪ বছরের পুরনো এক লজ্বাজনক খরা। এর আগে ১৯৬২ সালের জাকার্তা এशियन গেমসে গণপত আন্দলকর এই বিভাগে পদক জিতেছিলেন। তারপর দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে এই ক্যাটাগরিতে কোনো পদক তো দূরের কথা, ফাইনালেই উঠতে পারেনি ভারত। নিদেশের এই সাফল্য দেশের কুস্তি ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হয়ে রইল।
দুধ বিক্রেতা থেকে এশিয়ান গেমসের পডিয়াম
নিদেশ সিওয়াচের এই সুবর্ণ সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে এক মর্মান্তিক লড়াইয়ের গল্প। হরিয়ানার সোনপাতের জগসী গ্রামের সাধারণ এক পরিবারের সন্তান নিদেশ। তাঁর বাবা আনন্দ সিवाच ছোট করে দুধের ব্যবসা চালান। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি ঝোঁক থাকলেও পরে তিনি প্রতাপ স্পোর্টস স্কুলে কোচ ওম প্রকাশ দহিয়ার তত্ত্বাবধানে কুস্তির তালিম নেওয়া শুরু করেন।
কিন্তু পথচলা এত সহজ ছিল না। কেরিয়ারের শুরুর দিকে হাঁটুর মারাত্মক চোটের জেরে একসময় কুস্তিকেই চিরতরে বিদায় জানানোর উপক্রম হয়েছিল। পরিবারের আর্থিক সংকটের দিনে বাবা-দাদার হাত পাকাতে ঘরে ঘরে গিয়ে দুধের ডেলিভারি বয় হিসেবেও কাজ করেছেন নিদেশ। কিন্তু মনের জেদ আর হার না মানা মানসিকতা তাঁকে হার মানতে দেয়নি। চোট সারিয়ে ম্যাটে ফিরে একের পর এক আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি।
প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স
এবারের এশিয়ান গেমসে নিদেশের পথচলা ছিল আগ্রাসনে ভরপুর। কোয়ার্টার ফাইনালে তুর্কমেনিস্তানের আমানবার্দি আগামম্মেদভকে ৭-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে সেমিফাইনালে প্রবেশ করেন তিনি। এরপর সেমিফাইনালে মঙ্গোলিয়ার গঙ্খুয়াং গনবাটারকে ম্যাচের প্রথম তিন মিনিটের মধ্যে ৯-০ পয়েন্টে ধুলিস্যাৎ করে ফাইনালের টিকিট কনফার্ম করেন। ক্যাডেট এशियन চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে শুরু করে বিশ্ব ও এশীয় মঞ্চে একাধিক পদক জয়ী নিদেশের মুকুটে এবার যুক্ত হল এশিয়ান গেমসের এই ঐতিহাসিক রূপোলি সাফল্য।