২০২৪-এর ভরাডুবি থেকে শিক্ষা! ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কি বড় ধাক্কা পেতে চলেছেন বিজেপির বর্তমান বিধায়করা?

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে আশানুরূপ ফল না হওয়ায় এবং দলের আসন সংখ্যা কমে যাওয়ায় এবার অত্যন্ত সতর্ক পদক্ষেপ করছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ২০২৭ সালের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া এবং কৌশল বদলানোর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে শাসক দল। দলের অন্দরের গুঞ্জন অনুযায়ী, বর্তমান বিধায়কদের বিরুদ্ধে থাকা ক্ষোভ এবং স্থানীয় স্তরের অসন্তোষের কথা মাথায় রেখে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বর্তমান বিধায়কের টিকিট কাটা হতে পারে।
পরামর্শ বা সুপারিশ নয়, জোর দেওয়া হচ্ছে জনসমর্থনে
বিজেপির নতুন কৌশল অনুযায়ী, প্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে শুধু দলের জ্যেষ্ঠতা কিংবা পুরনো রেকর্ডই শেষ কথা হবে না। এর পরিবর্তে প্রার্থীর নিজস্ব ইমেজ, এলাকার মানুষের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা, সংগঠনের সঙ্গে তাঁর কাজের সুসম্পর্ক এবং বিভিন্ন গোপন সার্ভের ফিডব্যাককে প্রধান মাপকাঠি হিসেবে ধরা হবে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিতে চাইছে যে, কোনো নেতার একতরফা সুপারিশ বা ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে এবার আর কাউকে প্রার্থী করা হবে না। প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে যদি কোনো দ্বিমত থাকে, তবে যৌথ আলোচনার মাধ্যমে এমন কাউকে সামনে আনা হবে যিনি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য।
সংগঠনে নতুন মুখ ও তরুণ প্রজন্মের প্রাধান্য
২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোটের হার ও আসন সংখ্যা হ্রাসের কারণ হিসেবে স্থানীয় স্তরের ক্ষোভ ও সরকার-বিরোধী মনোভাবকে চিহ্নিত করেছে দল। তাই ২০২৭-এর লড়াইয়ে কোনো রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ বিজেপি। পাশাপাশি, ২০২৬ সালের জুনে গঠিত নতুন রাজ্য কমিটিতে যেভাবে তরুণ নেতৃত্ব এবং নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো হয়েছে, তাতে স্পষ্ট যে বিধানসভা নির্বাচনেও নতুন মুখ, তরুণ ও মহিলা প্রার্থীদের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে, উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে এবার সম্পূর্ণ নতুন রণকৌশলে এগোচ্ছে গেরুয়া শিবির।