“৪০০০ ইভিএম পুড়িয়েছে, মাস্টারমাইন্ড বিজেপি!” অভিষেককে পাশে নিয়ে দিল্লিতে হুঙ্কার মমতার

একদিন আগেই ইন্ডিয়া (I.N.D.I.A) শিবিরের মঞ্চ থেকে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে জোরালো আওয়াজ তুলেছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এবার দিল্লির মাটিতে দাঁড়িয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণের ধার আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বুকে এক সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি দাবি করেন, বিজেপিকে জেতানোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা মাফিকই এসআইআর করানো হয়েছে এবং এর মাস্টারমাইন্ড খোদ শাসকদল। এদিনের বৈঠকে তাঁর ঠিক পাশেই উপস্থিত ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন ও বাবুল সুপ্রিয়রা।
সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে একহাত নিয়ে মমতা প্রশ্ন তোলেন কলকাতার ৪০০০ ইভিএম পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে। তাঁর অভিযোগ, যেখানে ইভিএম রাখা ছিল, ঠিক সেই ৯ তলা বিল্ডিংয়েই রহস্যজনকভাবে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। জবরদস্তি বিজেপিকে জেতানোর জন্য এই কাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে নাম না করে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন এবং গণনা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হাইজ্যাক করে নেওয়া হয়েছে।
এদিন পরিসংখ্যান তুলে ধরে মমতা বলেন, “মার্চ মাসে নির্বাচন, তার আগে থেকেই কার্যত রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছিল। তামিলনাড়ু থেকে বিতর্কিত কাজকর্মের পরিচিত রাজ্যপালকে এনে বসানো হয়।” এরপরই ভোটচুরির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে তিনি জানান, বাংলায় কোন এলাকায় কীভাবে ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব রয়েছে তাঁদের কাছে। তাঁর দাবি, শাসকদলকে সুবিধা পাইয়ে দিতে এবং বিজেপিকে সন্তুষ্ট করতেই প্রতিহিংসার রাজনীতি চলছে।
তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, শুধু ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়াই নয়, বরং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে এবং সফটওয়্যারের কারচুপি করে গণতন্ত্রকে পদদলিত করা হয়েছে। তবে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষ চুপ থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা বলেন, “ঝড় আসছে ঝড়। মানুষ এর উপযুক্ত জবাব দেবেন।” দিল্লির এই হাই-ভোল্টেজ প্রেসমেট থেকে জাতীয় রাজনীতিতে এসআইআর ও ইভিএম বিতর্ককে ফের নতুন মোড়ে নিয়ে এল তৃণমূল শিবির।