প্রতি মিনিটে ৩০ হাজার ফুট গতিতে পতন! মাঝআকাশে সুপারসনিক গতি ছুঁয়েও কীভাবে অলৌকিকভাবে রক্ষা পেল Flydubai-এর বিমান?

মাঝআকাশে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স (Boeing 737 MAX) বিমান নিয়ে সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ককপিটে রক্তক্ষয়ী ও ভয়াবহ ঘটনার জেরে বিমানটি অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে ১৭ হাজার ফুটের কাছাকাছি নেমে আসে। এই সময় বিমানের গতি নিরাপদ সীমার অনেকটাই ছাড়িয়ে সুপারসনিক বা শব্দের গতির কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। এত চরম পরিস্থিতির পরেও বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করায় এর কাঠামোগত শক্তি এবং পাইলটদের দক্ষতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।

দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ওই বিমানটিতে মোট ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন। ককপিটে কো-পাইলটের অতর্কিত হামলায় ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর গুরুতর আহত হওয়ার পরেই বিমানটি ভয়াবহভাবে নীচের দিকে নামতে শুরু করে। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানটি প্রতি মিনিটে প্রায় ৩০ হাজার ফুট গতিতে নীচে নামছিল। এই পরিস্থিতিতে বিমানের উপর যে পরিমাণ চাপ তৈরি হয়েছিল, তা সাধারণ উড়ানের পরিস্থিতির তুলনায় বহুগুণ বেশি। অবতরণের পর বিমানের ছবিতে দেখা যায়, ভার্টিক্যাল স্ট্যাবিলাইজারের সঙ্গে থাকা রাডারের একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তা সত্ত্বেও বিমানটিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, বিমানের এয়ারফ্রেম পরীক্ষিত ও প্রত্যয়িত সীমার তুলনায় অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়ায় এবং বিশেষায়িত অ্যালুমিনিয়াম অ্যালয় ও কম্পোজিট উপাদান দিয়ে তৈরি হওয়ায় এটি চরম চাপ সহ্য করতে পেরেছে। এনডিটিভি দিল্লির একটি ফ্লাইং স্কুলে এই ঘটনার সিমুলেশনও করে দেখেছে। তবে ঠিক কোন পরিস্থিতিতে এমন ঘটনা ঘটল এবং কীভাবে শেষ পর্যন্ত ১৮০ জন যাত্রীর প্রাণ বাঁচল, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে।