নেতাজি-আম্বেডকরের ছবি কোথায়? আরএসএস শিক্ষক সংগঠনের আপত্তিতে সরল বিশ্বনেতাদের প্রতিকৃতি

দক্ষিণ কলকাতার ঢাকুরিয়ার একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব ও বিপ্লবীদের ছবি টাঙানো ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ও তুলকালাম কাণ্ড বেধেছে। স্কুলের শ্রেণিকক্ষ বা চত্বরে কেন কার্ল মার্কস, মাও জে দং কিংবা চে গেভারা-র মতো আন্তর্জাতিক দার্শনিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ছবি রাখা হবে—এই প্রশ্ন তুলে সরাসরি আপত্তি জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক সংগঠন। তাদের জোরালো দাবি, বিদেশি বা ভিন্ন ধারার বিপ্লবীদের পরিবর্তে বিদ্যালয়ের দেওয়ালে ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং সংবিধানপ্রণেতা ড. বি আর আম্বেডকরের মতো জাতীয় বীরদের প্রতিকৃতি শোভা পাওয়া উচিত। এই তীব্র প্রতিবাদের মুখেই শেষ পর্যন্ত স্কুল কর্তৃপক্ষ চাপের মুখে পড়ে ওই বিতর্কিত বিশ্বনেতাদের ছবি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন ওই বিদ্যালয়ের অন্দরে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রবক্তা ও বিপ্লবীর ছবি প্রদর্শিত হওয়ার বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। আরএসএস-সমর্থিত শিক্ষক সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, স্কুল পড়ুয়াদের কোমল মনে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক বা আদর্শগত প্রভাব বিস্তার করার উদ্দেশ্যেই এই ধরনের ছবিগুলি দেওয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়, দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস এবং জাতীয় নায়কদের অবদানের কথা বাদ দিয়ে কেন ভিনদেশি তাত্ত্বিকদের ছবি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রধান্য পাবে? এই নিয়ে স্কুল পরিচালন সমিতির সঙ্গে শিক্ষকদের একপ্রস্থ উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও ঘটে।

পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে এবং আইনি ও রাজনৈতিক বিরোধিতার শঙ্কা তৈরি হওয়ায় স্কুল কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং মার্কস, মাও ও চে গেভারা-র ছবিগুলি দেওয়াল থেকে নামিয়ে নেয়। যদিও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শিক্ষামহল ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বামপন্থী ও বুদ্ধিজীবী মহলের একাংশের দাবি, বিশ্ব ইতিহাস ও দর্শনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করাতে এই ধরনের ছবি রাখা কোনো অপরাধ নয়; বরং এটি শিক্ষার পরিধিকে প্রসারিত করে। অন্যদিকে, গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে সঠিক ও জাতীয়তাবাদী চেতনার জয় বলে অভিহিত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতার স্কুল চত্বরে আদর্শগত সংঘাত এখন তুঙ্গে।