উজ্জয়িনীতে রাস্তা প্রশস্তকরণ ঘিরে ধুন্ধুমার! ঐতিহাসিক শাহি মসজিদ ভাঙার গুজবে কী জানাল প্রশাসন?

মধ্যপ্রদেশের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় শহর উজ্জয়িনে রাস্তা প্রশস্তকরণ অভিযানকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি এক বড়সড় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ছত্রী চক এলাকার ঐতিহাসিক শাহি মসজিদের একটি অংশ ভেঙে ফেলা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানাবিধ গুজব ছড়াতে শুরু করে। তবে পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে দ্রুত ময়দানে নামে জেলা প্রশাসন এবং সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটায়। উজ্জয়িনের কালেক্টর রোশন সিং স্পষ্ট ভাষায় পুরো ঘটনার সত্যতা প্রকাশ করে জনসাধারণকে সম্পূর্ণ শান্ত থাকার এবং কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর বা ভুয়ো খবরে কান না দেওয়ার জন্য বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন।
কালেক্টর রোশন সিং সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, শহরজুড়ে চলমান রাস্তা প্রশস্তকরণ প্রকল্পের মূল পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ছত্রী চকের শাহি মসজিদটির যে অংশটি নির্ধারিত রাস্তার সীমানার ভেতরে পড়েছিল, তা অপসারণ করা হচ্ছিল। এর ফলে ভবনটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে সমস্ত বড় দুর্ঘটনার খবর বা মর্মান্তিক পরিণতির কথা প্রচার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ভাঙার কাজের সময় কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং কেউ আহত বা আটকে পড়ার মতো পরিস্থিতির শিকার হননি। ঘটনাস্থলে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় সহ অন্যান্য বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রবীণ এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন। সকলের পারস্পরিক সহযোগিতা ও আলোচনার ভিত্তিতেই প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে যে, যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় বা অন্য কোনো মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে গুজব, অপতথ্য বা হিতাহিত জ্ঞানশূন্য বিভ্রান্তিকর সংবাদ ছড়ানোর চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোরতম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে পুরো উজ্জয়িন শহর এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও প্রশাসনের কঠোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শহরের আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা সতর্ক প্রহরায় রয়েছেন।