মাঝ আকাশে ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে কো-পायलট! ১৮০ যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়ে নায়ক বাংলার গর্ব, সাহসিকতার খতিয়ান

মাঝ আকাশে ঘটে যাওয়া এক রোমহর্ষক ও লোমহর্ষক পরিস্থিতিতে নিজের সাহসিকতার জোরে প্রায় ১৮০ জন যাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন এক ভারতীয় পাইলট। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুबई (FlyDubai)-এর একটি ফ্লাইটের ককপিটে ওমানি কো-পायलটের সঙ্গে মারাত্মক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত मछार। সহ-পायलটের চক্রান্ত নস্যাৎ করে যেভাবে তিনি বিমানটিকে রক্ষা করেছেন, তা এখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।

সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, দুবাই থেকে ১৭১ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্যসহ মোট ১৮০ জনকে নিয়ে তেল আভিভ যাচ্ছিল ফ্লাইদুবেইয়ের এফজেড ১০৭৩ (FZ1073) ফ্লাইটটি। বিমানটি যখন গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন হঠাৎই ককপিটের ভেতরে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। ওমানের নাগরিক ওই কো-পायलট অতর্কিতভাবে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত मछারের ওপর ছুরি দিয়ে হামলা চালায়। প্রাথমিক তদন্ত ও ইজরায়েলি প্রশাসনের দাবি, ওই সহ-পायलটের উদ্দেশ্য ছিল ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানটিকে ক্র্যাশ করানো।

তবে হামলাকারী কো-পायलটের সেই অশুভ পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই চালান ক্যাপ্টেন স্মিত मछार। গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও তিনি এক ইঞ্চিও জমি ছাড়েননি। ককপিটের মধ্যেই দু’জনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এরপর বিমানের অন্যান্য যাত্রীরাও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে কো-পायलটকে বাগে আনতে সাহায্য করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিমান থেকে জরুরি বিপদ সঙ্কেত পাঠানো হয় এবং দ্রুত সেটিকে সৌদি আরবের তখন (Tabuk) বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ (Emergency Landing) করানো হয়।

ঘটনার আকস্মিকতায় ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রথমে হাইজ্যাকিংয়ের আশঙ্কা করে ফাইটার জেট মোতায়েন করলেও, পরে পরিস্থিতি পরিষ্কার হয়। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু একটি ভিডিও বার্তায় এই সাহসিকতার প্রশংসা করে জানান যে, বড় ধরনের মারাত্মক বিপর্যয় থেকে যাত্রীদের রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে আহত দুই পাইলটকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে এবং এই অন্তর্ঘাতের নেপথ্যে ঠিক কী কারণ ছিল, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে বিমান সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এজেন্সিগুলি।