ডাক্তার বানাতে চেয়েছিলেন শিক্ষক বাবা, আজ খাদের কিনারা থেকে উঠে ভারতীয় পেস অ্যাটাকের নতুন অস্ত্র আকিদ!

কথায় আছে, সাফল্যের জন্য কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি একটু বুদ্ধি ও অনুকরণও অনেক সময় বড় পথ দেখিয়ে দেয়। ঠিক এই পথেই হেঁটে আজ ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের জার্সিতে ঐতিহাসিক অভিষেক ঘটল তরুণ ডানহাতি পেসার আকিদ নবীর। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজের দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে অধিনায়ক কেএল রাহুলের হাত থেকে ভারতের ক্যাপ গ্রহণ করেন তিনি। এর মাধ্যমেই তিনি জম্মু-কাশ্মীর থেকে উঠে আসা মাত্র তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার দুর্লভ গৌরব অর্জন করলেন। এর আগে এই রাজ্যের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করেছেন কেবল পারভেজ রসুল এবং উমরান মালিক।

ছোটবেলায় দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি পেসার ডেল স্টেনের বোলিং অ্যাকশন, রান-আপ এবং উইকেট নেওয়ার উদযাপনের অন্ধ অনুকরণ করতেন আকিদ। টেনিস বল দিয়ে ক্রিকেট খেলার দিনগুলিতে ডেল স্টেনই ছিলেন তাঁর একমাত্র অনুপ্রেরণা। নিখুঁত সুইং এবং দু’দিকেই বল ঘোরানোর অবিশ্বাস্য দক্ষতার কারণেই আজ জাতীয় দলের নির্বাচকদের নজর কেড়েছেন এই পেসার। তাঁর বোলিং শৈলীতে ভারতীয় দলের অভিজ্ঞ পেসার মহম্মদ শামির প্রতিচ্ছবি দেখতে পান ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। শুধু বল হাতে বিধ্বংসী হয়ে ওঠাই নয়, লোয়ার অর্ডারে নেমে অত্যন্ত কার্যকরী ব্যাটেও পারদর্শী আকিদ। ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর ঝড়ো ব্যাটিং বেশ সুপরিচিত। ভবিষ্যতে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে হতে চলা বড় টুর্নামেন্টের পিচে তাঁর এই বোলিং বৈচিত্র্য টিম ইন্ডিয়ার তুরুপের তাস হয়ে উঠতে পারে।

তবে আকিদ নবীর এই সাফল্যের পথটি মোটেও সহজ ছিল না। তাঁর ইংরেজি শিক্ষক বাবা চেয়েছিলেন ছেলে পড়াশোনা শেষ করে চিকিৎসক হোক। এই কারণে প্রথম দিকে ক্রিকেট খেলার জন্য বাবার কড়া বকুনিও শুনতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু ছেলের অদম্য জেদ দেখে পরবর্তীতে পরিবার তাঁর পাশে দাঁড়ায়। আর্থিক অনটনের কারণে আকিদের এমন দিনও গেছে যখন অনূর্ধ্ব-১৯ ট্রায়ালে যোগ দেওয়ার মতো ভালো স্পাইক জুতোও ছিল না তাঁর কাছে। এক সিনিয়র খেলোয়াড়ের থেকে জুতো ধার করে ট্রায়াল দিয়ে দল জায়গা পান তিনি। এমনকি ওই ধার করা জুতো পরেই তিনি পুরো টুর্নামেন্ট খেলেছিলেন। পরবর্তী সময়ে রঞ্জি ট্রফি খেলে পাওয়া প্রথম পারিশ্রমিকের টাকা দিয়েই তিনি নিজের প্রথম স্পাইক জুতোটি কিনেছিলেন। টানা দুই-তিন বছর বিভিন্ন স্তরে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরও নিজের লক্ষ্য থেকে বিন্দুমাত্র সরে দাঁড়াননি আকিদ। তাঁর এই আত্মত্যাগ এবং হার না মানা মানসিকতা আজ তাঁকে ভারতীয় দলের মূল স্রোতে নিয়ে এসেছে।