যানবাহন চালকদের জন্য বড় আপডেট! নতুন সিএএফই ৩ (CAFE 3) নিয়ম আনল সরকার, কমবে গাড়ির দাম না বাড়বে চাপ?

পেট্রোল-ডিজেল ও যাত্রীবাহী গাড়ির বাজারের জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী বছরের ১ এপ্রিল থেকে ভারতে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে চলেছে নতুন এবং আরও কঠোর সিএএফই ৩ (CAFE 3) বা থার্ড ফিজ কর্পোরেট এভারেজ ফুয়েল ইকোনমি (Corporate Average Fuel Economy) নর্মস। সরকারের এই সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো দেশের মাটিতে চলা সমস্ত যাত্রীবাহী গাড়ির জ্বালানি দক্ষতা বা ফুয়েল এফিসিয়েন্সি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা এবং একই সঙ্গে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিসাধনকারী কার্বন ডাই অক্সাইডসহ অন্যান্য ক্ষতিকারক গ্যাসের নির্গমন বা এমিশন মাত্রা কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করা।

বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির সমস্যা বিশ্বজুড়ে এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে পরিবহন ক্ষেত্র থেকে নির্গত কার্বনের মাত্রা হ্রাস করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে। নতুন এই সিএএফই ৩ নীতি চালুর ফলে গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিকে এখন থেকে অনেক বেশি উন্নত প্রযুক্তির ইঞ্জিন ও জ্বালানি সাশ্রয়ী ভেহিকেল ডিজাইন করতে বাধ্য করা হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ গ্রাহকরা আগের চেয়ে অনেক বেশি মাইলেজ বা ভালো জ্বালানি সাশ্রয়ী সুবিধা পাবেন, তেমনই অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে দেশের আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমবে।

তবে এই নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের ফলে অটোমোবাইল সেক্টরের ওপর বড় ধরনের আর্থিক প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিকে তাদের প্রচলিত উৎপাদন লাইন এবং ইঞ্জিন প্রযুক্তিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে, যার জেরে নতুন মডেলের চার চাকা গাড়ির উৎপাদন খরচ বাড়তে পারে। ফলস্বরূপ, সাধারণ ক্রেতাদের পকেটে বাড়তি চাপ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার যদিও স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে পরিবেশবান্ধব এবং সবুজ প্রযুক্তির দিকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বার্থেই এই কঠোর নীতি প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি ছিল। আগামী ২০২৭ সালের পয়লা এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে এই নিয়ম পুরোপুরি বলবৎ হওয়ার পর গাড়ির বাজারে এর দীর্ঘমেয়াদী ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব কতটা কার্যকরী হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।