বীরভূমে উলটপুরাণ! খোদ বিজেপির বিরুদ্ধে আরএসএসের শাখা বৈঠকে হামলার বিস্ফোরক অভিযোগ, জখম ৩

রাজনীতিতে এ যেন একেবারে উলটপুরাণ! রাজ্যে পালাবদলের পর ডবল ইঞ্জিন সরকারের আমলেই খোদ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) ওপর হামলার অভিযোগ উঠল বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। বীরভূমের নানুরের জলুন্দি গ্রামে আরএসএসের শাখা বৈঠক চলাকালীন হামলা চালায় একদল ব্যক্তি। বাঁশ, লাঠি, রড এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এই হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন তিন জন স্বয়ংসেবক। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জলুন্দি গ্রামের রাধাগোবিন্দ মন্দিরে প্রতিদিনের মতো নিজস্ব শাখা সংগঠনের বৈঠক করছিলেন স্বয়ংসেবকরা। অভিযোগ, ঠিক সেই সময়ই একদল লোক হাতে অস্ত্র, বাঁশ ও লোহা রড নিয়ে তাঁদের ওপর চড়াও হয়। আহত স্বয়ংসেবক মোহন বসাকের অভিযোগ, “যারা হামলা চালিয়েছে, তারা গত ৪ মের পর নতুন করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছে। গ্রামে আরএসএসের কোনো কর্মসূচি হোক, তা ওরা চায় না। কারণ, ওরা এলাকায় তোলাবাজি ও অপকর্ম চালিয়ে যেতে চায়। উল্টে আমাদের ঘরবাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।”

এই ঘটনার পরেই এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় নানুর থানার পুলিশ। এদিকে, স্বয়ংসেবকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে নানুর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায় আরএসএস ও স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের একাংশ।

এই অনভিপ্রেত ঘটনা প্রসঙ্গে বোলপুরের বিজেপি নেতা সুমিত মণ্ডল জানান, এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তাঁর দাবি, “প্রকৃত বিজেপির লোকজন কখনই স্বয়ংসেবকদের গায়ে হাত তুলবে না। পুলিশ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিক।”

অন্যদিকে, নানুরের আরেক বিজেপি নেতা খোকন দাস স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যাঁরা হামলা চালিয়েছে, তাঁরা বিজেপির কেউ নন। তাঁরা মূলত তৃণমূল ও বামপন্থী দল থেকে আসা কিছু আগাছা। তারাই দল ভাঙিয়ে ভিতরে ঢুকে দলের বদনাম করছে এবং সংঘের কর্মীদের ওপর চড়াও হয়েছে।”

ঘটনার জেরে একদিকে যেমন বিরোধী শিবির শোরগোল শুরু করেছে, তেমনই শাসক দলের অন্দরের কোন্দল ও নতুন-পুরনো দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে।