পুজোর আগেই কি অ্যাকাউন্টে ঢুকবে মোটা টাকা? সরকারি কর্মীদের বড় দাবি ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা!

দুর্গাপুজোর ঠিক আগে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য কি তবে বড় কোনো আর্থিক সুখবর আসতে চলেছে? উৎসবের মরসুম শুরুর আগেই প্রোডাক্টিভিটি লিঙ্কড বোনাস (PLB) মিটিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে অত্যন্ত জোরালো দাবি তোলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, আসন্ন অষ্টম বেতন কমিশনের আওতায় বোনাসের হিসেবনিকেশ করার নিয়মেও বড়সড় পরিবর্তন আনার দাবি তুলেছে বিভিন্ন কর্মী সংগঠন।
সম্প্রতি জয়েন্ট কাউন্সিল অফ পোস্টাল এমপ্লয়িজ (JCPE)-এর পক্ষ থেকে সরাসরি ডাক বিভাগের সচিবের কাছে এই মর্মে একটি বার্তা পাঠানো হয়েছে। তাদের প্রধান দাবি হলো, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের বোনাস যেন পুজোর ছুটির আগেই কর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, এ বছর দুর্গাপুজো ১৭ অক্টোবর থেকে শুরু হতে চলেছে এবং ২১ অক্টোবর রয়েছে দশেরা। উৎসবের এই মরসুমে আগে থেকেই ঘরোয়া কেনাকাটা থেকে শুরু করে নানা খরচ সামলাতে হয়। তাই পুজো শুরুর আগেই বোনাসের টাকা ঢুকে গেলে কর্মচারীদের আর্থিক চাপ অনেকাংশে লাঘব হবে। তবে এখনও পর্যন্ত সরকারের তরফে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের বোনাস নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা করা হয়নি।
বোনাসের পাশাপাশি এর গণনার পদ্ধতি বা সূত্র বদল নিয়েও জোরদার অসন্তোষ ও দাবি উঠেছে। গত ২৫ অগাস্ট শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকের পক্ষ থেকে ‘কোড অফ ওয়েজেস ২০১৯’-এর অধীনে একটি সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যদি কোনো যোগ্য কর্মীর মাসিক মজুরি ৭০০০ টাকার বেশি হয়, তবে বোনাস হিসেব করার ক্ষেত্রে ন্যূনতম বেস ধরে নিতে হবে ৭০০০ টাকা কিংবা সরকারের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি—এর মধ্যে যেটি বেশি হবে। সরকারের এই নিয়মটি ২০২৫ সালের নভেম্বর মাস থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে এই গণনা পদ্ধতি নিয়েই তীব্র আপত্তি জানিয়েছে কর্মী সংগঠনগুলি। ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি-র প্রতিনিধিরা দাবি তুলেছেন যে, বোনাস হিসেব করার জন্য নির্ধারিত ৭০০০ টাকার এই ন্যূনতম সীমা বাড়িয়ে ২১,০০০ টাকা করা হোক। উৎসবের ঠিক আগের এই মরসুমে বোনাস গণনার ক্ষেত্রে ২১,০০০ টাকাকে বেস ধরে হিসাব করার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। যদিও সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত ও নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে কর্মী সংগঠনের এই চাপ বৃদ্ধির ফলে আগামী দিনে বড় কোনো নীতিগত বদল আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এখন দেখার বিষয়, পুজোর আগেই সরকার এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয় এবং কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয় কি না।