ট্রাফিক ফাইন দেননি? এবার বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে কাটবে জরিমানার টাকা! সুপ্রিম কোর্টের নজিরবিহীন পদক্ষেপ

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করে ই-চালান কেটেছেন অথচ জরিমানার অর্থ এখনও মেটাননি? এবার থেকে সেই বকেয়া ট্রাফিক জরিমানা सीधे বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে যুক্ত করে আদায় করার যুগান্তকারী প্রস্তাব দিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের মতে, কেবল ই-চালান জারি করলেই সমস্যার সমাধান হয় না, মূল চ্যালেঞ্জ হলো সেই জরিমানার টাকা বাস্তবে আদায় করা। দেশজুড়ে ট্রাফিক আইন কার্যকর করার বিষয়ে ২০১২ সালের একটি সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের ডিভিশন বেঞ্চ এই কড়া পর্যবেক্ষণ পেশ করে।

আদালতের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মোট প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার ট্রাফিক জরিমানা আদায় করা বাকি রয়েছে, যার মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র ২৫ হাজার কোটি টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ বকেয়া অর্থ আদায়ের উপায় হিসেবে বিচারপতি পারদিওয়ালা অভিনব প্রস্তাব দিয়ে জানান, মানুষ নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে বাধ্য হন। তাই ট্রাফিক জরিমানার বকেয়া টাকা যদি বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হয়, তবে শতভাগ আদায় নিশ্চিত করা সম্ভব। এমনকি জরিমানা না দিলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো চরম পদক্ষেপের কথাও আদালতে আলোচিত হয়েছে।

শুধু বিদ্যুৎ বিল নয়, বকেয়া জরিমানা আদায়ে আরও একগুচ্ছ কঠোর পদক্ষেপের কথা বলেছে শীর্ষ আদালত। যার মধ্যে রয়েছে—জরিমানা না মেটানো পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নবীকরণ এবং মালিকানা হস্তান্তর সম্পূর্ণ আটকে দেওয়া। পরিবহণ মন্ত্রকের ‘পরিবহন’ পোর্টালে এমন গাড়িগুলিকে ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ বা কালো তালিকাভুক্ত করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও, গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ (PUC) শংসাপত্র প্রদান বা নবীকরণ বন্ধ রাখা এবং জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স নবীকরণ আটকে দেওয়ার মতো কড়া প্রস্তাব রাখা হয়েছে। গুরুতর ক্ষেত্রে লাইসেন্স স্থগিত করার কথাও বিবেচনা করছে আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, কেবল বারবার ই-চালান কেটে বসে থাকলে চলবে না, বকেয়া আদায়ের জন্য কঠোর ও বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা অতি শীঘ্রই কার্যকর করতে হবে।