বড় বিপাকে জেএনইউ-এর প্রাক্তন গবেষক উমর খালিদ ও শারজিল ইমাম, হাইকোর্টে বড় ধাক্কা

২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লির হিংসা এবং তার পিছনে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের মামলায় আরও একবার আইনি ধাক্কা খেলেন জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) প্রাক্তন গবেষক-ছাত্র উমর খালিদ এবং বিশিষ্ট ছাত্র আন্দোলনকারী শারজিল ইমাম। বুধবার দিল্লি হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলায় তাঁদের পেশ করা জামিনের আর্জি সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিয়েছে। আদালতের এই রায়ের ফলে দীর্ঘ দিন ধরে কারাগারে থাকা এই দুই ছাত্রনেতার কারামুক্তির পথ আরও দীর্ঘ হলো।
বিচারপতি প্রতিভা এম সিং এবং বিচারপতি দীনেশ ভাটের ডিভিশন বেঞ্চ রায়দানকালে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, পূর্ববর্তী শুনানিতে দেশের শীর্ষ আদালত উভয় আবেদনকারীকে একটি নির্দিষ্ট শর্তে নতুন করে জামিনের আবেদন করার স্বাধীনতা দিয়েছিল। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, হয় সুরক্ষাপ্রাপ্ত সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে, কিংবা এক বছরের নির্দিষ্ট মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর—এই দুটির মধ্যে যে সময়সীমা আগে আসবে, কেবল তার পরেই তাঁরা পুনরায় জামিনের জন্য আইনি আবেদন করতে পারবেন। হাইকোর্ট জানিয়েছে, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বেঁধে দেওয়া এই স্পষ্ট আইনি শর্ত বা বিধিনিষেধ পরিবর্তন করার কোনো আইনি এখতিয়ার বা ক্ষমতা এই আদালতের নেই। ফলস্বরূপ, বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনের মারপ্যাঁচে হাইকোর্টের পক্ষে তাঁদের জামিন মঞ্জুর করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-কে কেন্দ্র করে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে যে ভয়াবহ হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছিল, তার নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র ছিল বলে অভিযোগ তোলে পুলিশ। ইউএপিএ (UAPA) বা কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় এই মামলা রুজু করা হয়। এই ষড়যন্ত্রের মূল মাথা হিসেবে উমর খালিদ এবং শারজিল ইমামসহ বেশ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে দিল্লি পুলিশ। সেই থেকেই আইনি লড়াইয়ের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করছেন ধৃতরা। নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে উচ্চ আদালত—বিভিন্ন স্তরে তাঁদের জামিনের আবেদন বারবার খারিজ হয়ে আসায় আইনি মহলে এই মামলাটি ঘিরে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। আগামী দিনে এই আইনি লড়াই কোন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।