এসআরএফটিআই সংঘর্ষ কাণ্ডে বড় মোড়! লালবাজারের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন, নবান্নের কড়া নির্দেশ

গত রবিবার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI)-এর অডিটোরিয়ামে ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন সংঘর্ষ ও অশান্তির ঘটনায় এবার সরাসরি বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করল লালবাজার। ঘটনার তীব্রতা এবং এর পেছনে থাকা বিভিন্ন সংবেদনশীল দিক খতিয়ে দেখতে কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত নগরপাল (গোয়েন্দা) কুণাল আগরওয়ালের নেতৃত্বে এই উচ্চপর্যায়ী সিট গঠন করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের নির্দেশেই এই বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২৭ সেপ্টেম্বর এসআরএফটিআই-এর অডিটোরিয়ামে ‘অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত পশ্চিমবঙ্গ প্রান্ত’-এর একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে পড়ুয়াদের বাধা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়, যা পরবর্তীতে তুমুল হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এই ঘটনায় পড়ুয়া এবং অনুষ্ঠানের আয়োজক— উভয় পক্ষের তরফ থেকেই একাধিক গুরুতর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। রবিবারের এই তাণ্ডবের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির পড়ুয়া এবং শিক্ষকদের একাংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছিল। তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও স্বচ্ছতা নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সেই সমস্ত দিক বিবেচনা করেই এবার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও কঠোর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হলো পুলিশের শীর্ষস্থানীয় গোয়েন্দাদের।
কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত নগরপাল (ক্রাইম) কুণাল আগরওয়ালের নেতৃত্বে গঠিত এই বিশেষ দলে রয়েছেন কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট) স্পর্শা নিলাঙ্গি, সিআইডি-র ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ কৌশিক ঘোষ, কলকাতা পুলিশের অ্যান্টি-রাউডি সেকশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার সালিল রায়, ইস্টার্ন সাবার্বান ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার তুষারকান্তি ঘোষ এবং ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের ইন্সপেক্টর হীরক দলপতি। লালবাজার জানিয়েছে, প্রয়োজনে রাজ্য পুলিশ বা কলকাতা পুলিশের আরও অভিজ্ঞ আধিকারিক ও কর্মীদের এই দলে যুক্ত করা হতে পারে।
এসআইটি-র মূল লক্ষ্য হলো— ঘটনায় ঠিক কী ঘটেছিল, এর নেপথ্যে সুনির্দিষ্ট কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না, ঘটনার মূল উসকানিদাতা কারা এবং এর সঙ্গে আর কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, তা নিখুঁতভাবে খুঁজে বের করা। ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজ, বিভিন্ন তথ্য এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান নতুন করে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে। পাশাপাশি, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি ব্যক্তি, সংস্থা এবং অন্যান্য পক্ষের ভূমিকা আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজন সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ঘটনার পেছনে কোনো বৃহত্তর যোগসূত্র বা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখবে তদন্তকারী দল।
নবান্ন ও লালবাজার সূত্রে খবর, অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে এসআইটি-কে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রবিবারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, তার সম্পূর্ণ সত্যতা খুব শীঘ্রই প্রকাশ্যে আসবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।