পাকিস্তানের চরম বিশ্বাসঘাতকতা, অন্ধকারে ডুবতে বসেছে বাংলাদেশ? জানুন কেন?

একদিকে যখন পাকিস্তানের সঙ্গে সখ্য বাড়ানোর চেষ্টা চলছে এবং বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমানকে পাশে সরিয়ে মহম্মদ আলি জিন্নাহকে আপন করার কূটনৈতিক বার্তা দেওয়া হচ্ছে, ঠিক তখনই ঢাকাকে কঠিন আয়না দেখাল ইসলামাবাদ। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে ফের চরম বেইমানির পরিচয় দিল পাকিস্তান। রাশিয়া থেকে পরমাণু জ্বালানি নিয়ে আসা বিমানগুলির জন্য নির্ধারিত আকাশপথ বা এয়ারস্পেস আকস্মিকভাবে ব্লক করে দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। যার ফলে তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে থাকা বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ আরও পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী গত ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে পরমাণু জ্বালানি এসে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু পাকিস্তান নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে না দেওয়ায় সেই সরবরাহ থমকে গেছে। ইতিহাস বলছে, যে পাকিস্তানের নির্মম অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে ভারতের সহায়তায় স্বাধীন হয়েছিল বাংলাদেশ, সেই পাকিস্তান বুঝিয়ে দিল—ঢাকা যতই বন্ধুত্বের হাত বাড়াক না কেন, ইসলামাবাদ বরাবরের মতো স্রেফ নিজের স্বার্থেই ব্যবহার করছে বাংলাদেশকে।

সময়টি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে দেশটি। দিনে প্রায় আট থেকে দশ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং চলছে। এই পরিস্থিতিতে রূপপুর কেন্দ্রে বাণিজ্যিক উৎপাদন যত দ্রুত সম্ভব শুরু করতে চাইছে ঢাকা। কিন্তু পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তে পরমাণু জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের দেরি হলো, যা বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির চালুর সময়সূচিকে সরাসরি প্রভাবিত করবে।

বাংলাদেশের রূপপুর প্রকল্প গড়ে তুলছে রাশিয়ার সরকারি পরমাণু সংস্থা রোসাটম, এবং তারাই বাংলাদেশকে ইউরেনিয়াম সরবরাহ করছে। পাকিস্তান আকাশসীমা বন্ধ রাখায় যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা স্বীকার করে নিয়েছেন খোদ বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মেহবুব আনম। তিনি জানিয়েছেন, সচরাচর রাশিয়ার বিমান আজারবাইজান, কাজাখস্তান, পাকিস্তান ও ভারতের আকাশসীমা হয়ে ঢাকায় অবতরণ করত। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কোনো কারণ না দর্শিয়েই পাকিস্তান সেই পথ ব্লক করে দিয়েছে। এই আকস্মিক পদক্ষেপের আসল কারণ নিয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েছে ঢাকা। এমনকি বাংলাদেশ অ্যাটোমিক এনার্জি কমিশনও এই বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে।

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি স্টার’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, রাশিয়া এখন বিকল্প রুটে জ্বালানি সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিলেও সেই প্রক্রিয়া ডিসেম্বরের আগে শুরু হওয়ার নয়। এর ফলে রূপপুর প্রকল্পের বাণিজ্যিক উৎপাদন আরও পিছিয়ে গেল।

এদিকে ঢাকা নিযুক্ত পাকিস্তানের হাই কমিশনার এই ঘটনাকে নিছক ‘প্রযুক্তিগত ও প্রক্রিয়াগত ইস্যু’ বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছেন। পাকিস্তান দূতাবাসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে তারা অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। তাই বিষয়টিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা উচিত নয়। তবে প্রশ্ন উঠছে, বন্ধুত্বের খোলসে পাকিস্তান কি বারবার বাংলাদেশের পিঠে ছুরি মারার পুরোনো খেলাই খেলছে?