আমেরিকা-পাকিস্তান মাখামাখিতে চটে লাল দিল্লি! দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে সরাসরি কিসের চরম হুঁশিয়ারি দিলেন জয়শঙ্কর?

সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ ভারতের অন্যতম প্রধান এবং সংবেদনশীল উদ্বেগ। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকে ভারতের সহযোগী দেশগুলি যদি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা না করে, তবে তার সরাসরি প্রভাব দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর পড়তে পারে। সোমবার নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনাসভায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামাবাদের সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতা এবং ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এই দ্ব্যর্থহীন বার্তা দিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ওয়াশিংটন ও পাকিস্তানের ক্রমবর্ধিষ্ণু কূটনৈতিক সখ্যতার আবহে ভারতের এই অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

নিউইয়র্কের ওই সভায় ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়শঙ্কর বলেন যে, বৃহত্তর আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটেই এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে বিচার করতে হবে। তাঁর মতে, বিশ্বের বহু দেশের সঙ্গেই বর্তমানে আমেরিকার সম্পর্ক বেশ কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এরপরই আমেরিকা ও পাকিস্তানের সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্পষ্ট জানান, বিগত এক বছরে ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠতা যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, তা ভারতের উদ্বেগের মূল কারণ। জয়শঙ্কর দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, “ভারতের কাছে যে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, তা হল সন্ত্রাসবাদ।” তাঁর বক্তব্য, প্রতিবেশী একটি দেশের কাছ থেকে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পরিকল্পিত ও সচেতন নীতির অংশ হিসেবে যে ধরনের ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদের মুখোমুখি ভারতকে হতে হয়েছে, এমন অভিজ্ঞতা বিশ্বের অত্যন্ত কম দেশেরই রয়েছে।

বিদেশমন্ত্রী আরও কঠোর বার্তা দিয়ে জানান, ভারতের কাছে যে বিষয়গুলি সর্বদাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়, সেগুলি যদি সহযোগী দেশগুলি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে না বোঝে, তবে স্বাভাবিকভাবেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে আমেরিকা ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক নতুন করে ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এমনকি ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘাত থামাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট মধ্যস্থতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন বলে বারবার দাবি করলেও ভারত সেই দাবি বরাবরই জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

অন্যদিকে, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর জানান যে, একটি স্থায়ী বাণিজ্য চুক্তি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উন্নত করতে পারে। তবে দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করার যে প্রাথমিক প্রত্যাশা ছিল, তা বর্তমানের জটিল বাস্তবতার মুখে পড়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, ভারত মূলত ছোট উৎপাদক, ছোট কৃষক এবং ক্ষুদ্র কারখানার দেশ। আমেরিকার সঙ্গে মাথাপিছু আয় এবং উৎপাদন কাঠামোর বিরাট পার্থক্যের কারণে এই চুক্তি সম্পন্ন করতে ধৈর্য ও পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। বাণিজ্য চুক্তির বেশিরভাগ বিষয়ে বোঝাপড়া তৈরি হলেও আমেরিকার ‘Section 301’ প্রক্রিয়া এবং শুল্কনীতি সংক্রান্ত জটিলতা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। ফলে কোন সময়ে বাকি বিষয়গুলি চূড়ান্ত হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তবে সমস্ত প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে আমেরিকা ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর নয়াদিল্লি, এমনটাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী।