‘বাবা কোনো ভুল করেননি!’ নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান জামিন পেতেই মেয়ের কোন কথায় কাঁপছে রাজ্য রাজনীতি?

ভোটের উত্তাপ চড়তেই রাজনৈতিক পারদ চরমে উঠল শুভেন্দু অধিকারীর গড় নন্দীগ্রামে। ভোটের ঠিক প্রাক্কালে পুরনো একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেলে দিন কাটাতে হয়েছিল নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে। তবে ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক তরজা। এই টানাপোড়েনের মাঝেই মঙ্গলবার বড় স্বস্তি পেলেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। আইনি লড়াইয়ের পর এ দিন আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করায় কারামুক্ত হয়েছেন তিনি। আর জেলের তালা খুলতেই নন্দীগ্রামে কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসবের মেজাজ ও উল্লাস শুরু হয়ে যায়। জেলমুক্তির খবর চাউর হতেই উচ্ছ্বসিত পরিবারও।
বাবা জেলমুক্ত হওয়ার পর টিভি ৯ বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিলন প্রধানের মেয়ে অরুণিমা প্রধান আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমি কারও নাম নেব না। যা সত্যি তাই থাকুক। আমার বাবা কখনও কোনো ভুল কাজ করেননি। আমার বাবার যেটা হওয়ার সেটাই হবে।” অন্যদিকে, মিলন প্রধানের জামিনের খবর পৌঁছানোর পরই নন্দীগ্রাম বাইপাস সংলগ্ন কংগ্রেস কার্যালয় যেন এক উৎসবের শহরে পরিণত হয়। ব্লক সভাপতি থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মী—সকলেই মিষ্টিমুখ করিয়ে আনন্দ উদ্যাপন করেন। কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি মহামান্য আদালতকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “গণতন্ত্রের জয় হয়েছে। গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ কখনো করা যায় না, আজও যাবে না।” এরপরই হুংকার ছেড়ে তিনি জানান, জেল থেকে মুক্ত হয়ে ফেরার পর হুডখোলা জিপে ফুল দিয়ে বরণ করে পুরো ব্লকে ধামাকাদার প্রচার চালানো হবে।
তবে এই জামিনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জলঘোলা। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার কটাক্ষ করে বলেন, “মানুষ প্রতিবাদ করেছে। মহামান্য আদালত তাঁকে জামিন দিয়েছে। এর থেকেই প্রমাণিত হয় মিথ্যাকে কখনো স্থায়ী করা যায় না।” অন্যদিকে, বিজেপি বিধায়ক ও প্রবীণ নেতা সজল ঘোষ তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্য যাই থাকুক না কেন, খুনের মামলার আসামিকে প্রার্থী করবে আর তাকে যদি পুলিশ প্রথমে না ধরে, তখন এরা আবার প্রশ্ন তুলবে। সরকারের কাজ হল আইনকে আইনের পথে চলতে দেওয়া।” এই প্রসঙ্গে পিছিয়ে থাকেননি সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষও। তিনি আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর প্রার্থীর পাশাপাশি মিলন প্রধানের বিরুদ্ধেও আমরা রাজনৈতিক লড়াই চালাচ্ছি। উনি জেলে বসে আছেন বলে আমরা চুপিচুপি প্রচার সেরে ফেলব—এমন হীন কাজ সিপিএম করে না, সেটা বিজেপির স্টাইল। আর সেই কারণেই ভোট ঘোষণার পর পুরনো মামলায় তাঁকে গ্রেফতার হতে হয়।” সব মিলিয়ে মিলন প্রধানের জামিন ঘিরে নন্দীগ্রামের নির্বাচনী ময়দান এখন চরম উত্তপ্ত।