দিল্লিতে গিয়ে কার কার মুখোমুখি হবেন মমতা? ইণ্ডিয়া জোটের বৈঠকে বড় মোচড়!

ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিতে আজ, মঙ্গলবার দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিপিআইএম এবং কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে গত সপ্তাহের টেলিফোনিক কথোপকথন ও তীব্র জল্পনার পরই তাঁর এই দিল্লি সফরকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে চরম চর্চা। আজ সোমবার ২৯ সেপ্টেম্বর কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং আগামিকাল বুধবার বিরোধী জোটের বৈঠকে যৌথ কর্মসূচির চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এবারের এই মেগা বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং অখিলেশ যাদব থাকছেন না বলে জানা গেছে।
দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগে আজ বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে এ দিন তৃণমূল সাংসদ ও নেত্রী দোলা সেনও উপস্থিত ছিলেন। বিমানবন্দর থেকেই দিল্লি রওনা দেওয়ার প্রাক্কালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা স্পষ্ট জানান, “নির্বাচন কমিশন নিয়ে ইন্ডিয়া অ্যালায়েন্সের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে, সেই কারণেই আমি দিল্লি যাচ্ছি।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিরোধী জোট যে বড় কোনো যৌথ কৌশল নিতে চলেছে, এই বৈঠক তারই অঙ্গ।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, বাংলার মাটিতে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সিপিআইএম ও কংগ্রেসের নিচুতলার কর্মীদের তীব্র আপত্তি ও অনীহা রয়েছে। অতীতে রাজ্যে ক্ষমতায় থাকার সময় বাম ও কংগ্রেসকে কোণঠাসা করার এবং গুরুত্ব না দেওয়ার বহু অভিযোগও মমতার বিরুদ্ধে রয়েছে। তবে বর্তমানে ক্ষমতার সমীকরণ বদলে যাওয়ায় এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দুই রাজনৈতিক দলকেই পাশে পাওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। শোনা যাচ্ছে, এই দিল্লি সফরে তিনি কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে আলাদা করে একান্ত বৈঠক করতে পারেন। পাশাপাশি, আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গেও তাঁর পৃথকভাবে সাক্ষাতের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবির সঙ্গে ফোনে দীর্ঘ আলোচনা হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এর আগে এমএ বেবির তরফ থেকে সমস্ত বিরোধী দলীয় নেতাদের কাছে একটি বিশেষ চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সেই চিঠির লিখিত জবাব দেওয়ার পরেই গত শনিবার দুই নেতার মধ্যে ফোনে বিস্তারিত কথা হয়। সেই টেলিফোনিক ফোনালাপে যত দ্রুত সম্ভব ইন্ডিয়া ব্লকের বৃহত্তর বৈঠক ডাকার জন্য বিশেষ আর্জি জানান মমতা। এমএ বেবির তরফেও সমস্ত বিরোধীদের একত্রিত করে বড়সড় আন্দোলনের রূপরেখা তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হলে তাতে অবিলম্বে সায় দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফোনালাপে তিনি পরামর্শ দেন যে, সমস্ত বিরোধীদের ভেদাভেদ ভুলে অতিদ্রুত যৌথভাবে পথে নেমে সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করা উচিত। এখন দেখার, দিল্লির এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে বিরোধী জোট কোন নতুন রাজনৈতিক দিশা পায়।