মাত্র সাড়ে চার বছর বয়সেই মর্মান্তিক পরিণতি! আলিপুর চিড়িয়াখানায় অকালে প্রাণ হারাল অন্তঃসত্ত্বা সিংহী!

কলকাতার ঐতিহাসিক আলিপুর চিড়িয়াখানায় ফের নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। অকালেই প্রাণ হারাল মাত্র সাড়ে চার বছর বয়সি একটি তরতাজা সিংহী। ওড়িশার বিখ্যাত নন্দনকানন জ্যুলজিক্যাল পার্ক থেকে প্রায় দু’বছর আগে এই সিংহীটিকে আলিপুরে নিয়ে আসা হয়েছিল। চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ওই সিংহীটি অন্তঃসত্ত্বা ছিল। তার এই আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে গোটা চত্বরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে চিড়িয়াখানার চিকিৎসা ব্যবস্থা ও তদারকি নিয়ে।
বেশ কিছুদিন ধরেই সিংহীটির পায়ে সংক্রমণ বা ইনফেকশন দেখা দিয়েছিল। সংক্রামিত অংশ থেকে লোম ও চামড়া পর্যন্ত উঠে যাচ্ছিল বলে খবর। খাঁচাতেই তার প্রাথমিক চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু গত রবিবার হঠাৎই তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। এরপর তড়িঘড়ি অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাকে চিড়িয়াখানার ঠিক উলটো দিকের বিশেষ পশু হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে সোমবার সকালেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সিংহীটি। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর সোমবারই হাওড়ার গড়চুমুকে তার দেহ সৎকার করা হয়। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। আলিপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। যদিও এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো স্পষ্ট বিবৃতি দিতে নারাজ আধিকারিকরা।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, অল্পবয়সি এই সিংহীটির অসুস্থতা যদি আরও দ্রুত শনাক্ত করে সঠিক সময়ে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা যেত, তবে হয়তো এই মর্মান্তিক পরিণতি এড়ানো সম্ভব হতো। উল্লেখ্য, আলিপুর চিড়িয়াখানায় দীর্ঘদিন ধরেই সিংহের বংশবৃদ্ধির জোরালো চেষ্টা চলছে। ২০১৯ সালে হায়দরাবাদ চিড়িয়াখানা থেকে আসা সিংহ-দম্পতি ‘শ্রুতি’ ও ‘বিশ্বাস’ তিনটি শাবকের জন্ম দিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ দিন নতুন কোনো শাবক জন্মায়নি। ২০২৪ সালের অগস্টে নন্দনকানন থেকে একজোড়া নতুন সিংহ-সিংহী এনে প্রজননের নতুন আশা দেখেছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু গত বছর জুলাইয়ে বার্ধক্যজনিত কারণে পুরুষ সিংহ বিশ্বাসের মৃত্যু হয়। এবার নতুন আনা স্ত্রী সিংহীটিরও অকালমৃত্যু ঘটল।
এর ফলে আলিপুর চিড়িয়াখানায় বর্তমানে সিংহের সংখ্যা কমে দাঁড়াল মাত্র চারটিতে—একটি পুরুষ এবং তিনটি স্ত্রী। বাকি তিন সিংহীর মধ্যে রয়েছে প্রবীণা ‘শ্রুতি’ ও তার দুই কন্যা। বার্ধক্যের কারণে তাদের দিয়ে নতুন করে প্রজননের কোনো সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ফলে ভিন রাজ্য থেকে নতুন সিংহ-সিংহী এনে খাঁচায় বংশবৃদ্ধির উদ্যোগ এখন বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল। এদিকে, সঙ্গীকে হারিয়ে চিড়িয়াখানার একমাত্র পুরুষ সিংহটিও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং তার খাওয়া-দাওয়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে। এখন সবার নজর রয়েছে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকে, যা মৃত্যুর আসল রহস্য উন্মোচন করতে পারে।