সীমান্ত পার কঠিন হতেই নতুন কৌশল! যাত্রীবাহী এসইউভি-তে গরু পাচারচক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার মূল পাণ্ডা

বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে অন্য ১০টা সাধারণ যাত্রীবাহী গাড়ি বা ট্যাক্সি চলাচল করছে। কিন্তু সেই ইনোভা বা জাইলো গাড়ির ভেতরে লুকিয়ে ছিল এক ভয়ঙ্কর রহস্য। সিট খুলে তৈরি করা হতো গোপন কেবিন, আর সেই গোপন জায়গাতেই পাচার করা হতো চুরি যাওয়া গরু! সোনারপুরে গরু চুরির একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে এমনই এক অভাবনীয় ও অভিনব পাচারচক্রের সন্ধান পেল পুলিশ। এই ঘটনায় আজগার ফকির নামে মগরাহাটের এক বাসিন্দাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোটা অঞ্চলে সক্রিয় গরু চুরি ও পাচার চক্রের অন্যতম মূল মাথা হলো এই আজগার।

তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, চক্রের সদস্যরা অত্যন্ত সুকৌশলে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গরু চুরি করত। এরপর পুলিশের চোখে ধুলো দিতে সাধারণ যাত্রীবাহী চারচাকা গাড়ি ব্যবহার করা হতো। ইনোভা বা জাইলোর মতো বড় গাড়ির পিছনের সমস্ত সিট খুলে ফেলে সেখানে গরু তোলার বিশেষ বন্দোবস্ত করা হতো। ফলে বাইরে থেকে দেখে বোঝার বিন্দুমাত্র উপায় থাকত না যে ওই চলন্ত গাড়ির ভেতরে গবাদি পশু পাচার করা হচ্ছে।

পুলিশের প্রাথমিক জেরায় আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। একসময়ে এই আজগার ফকির আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে গরু পাচারের অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল। পরবর্তীতে সীমান্তে কড়াকড়ি বাড়ায় এবং পাচার কঠিন হয়ে ওঠায় অপরাধের কৌশল সম্পূর্ণ বদলে ফেলে সে। এই ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে সোনারপুর থানার পুলিশ বিগত বেশ কিছুদিন ধরে গোপন সূত্রে নজরদারি চালাচ্ছিল। অবশেষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে আজগারকে পাকড়াও করা হয়।

তবে আজগারকে গ্রেফতার করেই তদন্ত শেষ করতে নারাজ তদন্তকারীরা। এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা জানতে তাকে লাগাতার জেরা করা হচ্ছে। পুলিশ জানতে চাইছে, এই সংঘবদ্ধ চক্রে আর কারা সরাসরি যুক্ত রয়েছে, চুরি যাওয়া গরুগুলি মূলত কোন কোন এলাকায় পাচার করা হতো এবং এই অবৈধ কারবারে এরকম আর কতগুলি গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে। পুলিশের জোরালো অনুমান, এই ঘটনার নেপথ্যে একটি বিশাল বড় আন্তর্জাতিক বা আন্তঃরাজ্য নেটওয়ার্ক কাজ করছে। সেই সমস্ত গোপন সূত্র ও অপরাধের সহযোগীদের খুঁজে বের করতে এখন মরিয়া তল্লাশি চালাচ্ছে সোনারপুর থানার বিশেষ তদন্তকারী দল।