বিগ বসের মঞ্চে কার ওপর চরম মেজাজ হারালেন সলমন? সোজা জেলে ভরার হুঙ্কার ভাইজানের!

শনি ও রবি মানেই টেলিভিশন প্রেমীদের কাছে ‘বিগ বস’-এর উইকেন্ড কা ভার এবং বলিউড মেগাস্টার সলমন খানের কড়া নজরদারি। এই দু’দিন রিয়্যালিটি শোয়ের মঞ্চে যেমন প্রতিযোগীদের ভুলত্রুটি নিয়ে ধমকধমকি চলে, তেমনই সমাজের নানা গুরুতর ও প্রাসঙ্গিক ইস্যু নিয়েও খোলামেলা আলোচনা করেন ভাইজান। তবে সাম্প্রতিক এপিসোডে ঘরের কোনো প্রতিযোগী নয়, বরং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর অপব্যবহার নিয়ে বেজায় চটে যান সলমন। ডিপফেক ভিডিওর রমরমা কারবার দেখে মেজাজ হারিয়ে সরাসরি দোষীদের জেলে পাঠানোর পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন তিনি।
এদিন বিগ বসের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ডিপফেক প্রযুক্তির অন্ধকার দিকটি তুলে ধরে সলমন খান বলেন, “ধরুন কেউ আপনার এআই ভয়েস বা কণ্ঠস্বর ক্লোন করে কাউকে গালিগালাজ করিয়ে দিল। আপনি কি জানতেন যে তাঁরা এটা করছেন? আজ জলের দরে এআই ভিডিও বানানো হচ্ছে, যেখানে বহু চেনা মানুষের মতো আমার নিজেরও বহু ডিপফেক ভিডিও তৈরি করা হয়েছে।” এই ধরনের কুৎসিত ও প্রতারণামূলক কাজ যাঁরা করছেন, তাঁদের মানসিকতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন অভিনেতা। তাঁর সাফ কথা, এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কড়া আইনি পদক্ষেপ করা জরুরি।
সাধারণ মানুষের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে যে একটি অশুভ চক্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে, সেকথাও স্মরণ করিয়ে দেন অভিনেতা। তিনি দর্শকদের সতর্ক করে বলেন, “সাধারণ মানুষ তো বুঝতে পারেন না যে এগুলো এআই ভিডিও, তাই তাঁরা সরল মনে শেয়ার করে বলেন— আরে ওখানে তো সলমন খানকে দেখা গেছে! কিন্তু যাঁরা জেনেশুনে এই অপরাধমূলক ভিডিওগুলো তৈরি করছেন, তাঁরা কেমন মানুষ? এসব বিকৃত মানসিকতার লোকজনকে অবিলম্বে জেলে পাঠানো উচিত। যতক্ষণ না এঁদের মধ্যে দু-চারজনকে শ্রীঘরে পাঠানো হচ্ছে, ততক্ষণ এই জঘন্য অপরাধ কোনোভাবেই থামবে না।”
উল্লেখ্য, ডিজিটাল দুনিয়ায় সাইবার অপরাধ, সোশ্যাল মিডিয়া ট্রোলিং কিংবা বডি শেমিংয়ের মতো নেতিবাচক প্রবণতা নিয়ে আগেও একাধিকবার সরব হয়েছেন সলমন। ভার্চুয়াল জগতের এই অনৈতিক পতন রোধ করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও কঠোর সেন্সরশিপ বা নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন বলেই মনে করেন বলিউডের এই শীর্ষস্থানীয় তারকা।