উত্তর-পূর্ব ভারতের রেলযাত্রায় যুগান্তকারী বিপ্লব! আইআইটি গুয়াহাটির হাত ধরে চালু হলো হাই-টেক ‘প্রজেক্ট দৃষ্টি’

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে এবং আইআইটি গুয়াহাটির যৌথ উদ্যোগে মালবাহী ওয়াগনের সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় করতে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হলো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত সমাধান—প্রজেক্ট ‘দৃষ্টি’। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই হাই-টেক প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), হাই-স্পিড ক্যামেরা, ইন্টেলিজেন্ট লাইটিং এবং সুরক্ষিত নেটওয়ার্কিংয়ের এক অনবদ্য সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই সিস্টেমটি ট্রানজিটের সময় ওয়াগনের দরজা, তালা ও সিলের উপর সার্বক্ষণিক ও নিখুঁত নজরদারি চালাবে। এর ফলে পণ্য চুরির সম্ভাবনা বা যেকোনো ধরনের অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার চেতন কুমার শ্রীবাস্তব দেশের সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং কৃষিকাজ ও শিল্পোদ্যোগকে সহায়তা প্রদানে পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ভৌগোলিক ও পরিবেশগত প্রতিকূলতার কারণে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সড়কপথের তুলনায় রেলওয়েই আঞ্চলিক অর্থনীতির প্রধান জীবন-রেখা। আগে রাতের বেলা বা প্রতিকূল আবহাওয়ায় ওয়াগনের তালা ও সিল পরীক্ষা করার কাজটি ছিল অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও কায়ক্লেশপূর্ণ। কিন্তু প্রজেক্ট দৃষ্টির হাই-স্পিড ক্যামেরা ও এআই প্রযুক্তির সাহায্যে এখন অত্যন্ত দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে এই পরিদর্শন কাজ সম্পন্ন করা যাবে, যা রেলকর্মীদের কাজের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রেনগুলি যখন নির্ধারিত পর্যবেক্ষণ পয়েন্টগুলি অতিক্রম করবে, তখন এই সিস্টেমটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়াগনের নম্বর শনাক্ত করে তার দরজা, তালা ও সিলের বর্তমান অবস্থা যাচাই করবে। সিল বা তালা অক্ষত রয়েছে কি না কিংবা কোথাও কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা মুহূর্তেই ডিজিটালি রেকর্ড করে ফেলবে এই সফটওয়্যার। এর ফলে রেলের কমার্শিয়াল ও আরপিএফ কর্মীরা সময়মতো যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবেন। আইআইটি গুয়াহাটি এবং রেলওয়ের যৌথ এই অভিনব উদ্যোগ আগামী দিনে পণ্যবাহী পরিবহনের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।