বড় ধাক্কা শাসক শিবিরে! তৃণমূলে ভাঙন ধরিয়ে ১৩ জন পঞ্চায়েত সদস্য সহ শতাধিক কর্মী একযোগে যোগ দিলেন কংগ্রেসে

একসময়ের কংগ্রেসি শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পুরনো মালদার মহিষবাথানি অঞ্চলে ফের ঘাসফুল শিবিরকে বড় ধাক্কা দিয়ে নিজেদের হারানো জমি ফিরে পাওয়ার দাবি করল হাত শিবির। রবিবার মহিষবাথানী অঞ্চলের বলরামপুরে আয়োজিত এক মেগা যোগদান কর্মসূচিতে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে বড় চমক দিয়ে ১৩ জন সক্রিয় পঞ্চায়েত সদস্য, একজন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের খোদ তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি এবং ব্লকের সহ-সভাপতি সহ শতাধিক তৃণমূল কর্মী-সমর্থক আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসে যোগদান করেন। এদিন মালদা জেলা কংগ্রেসের সভাপতি ঈশা খান চৌধুরী এবং প্রদেশ কংগ্রেসের সহ-সভাপতি তথা প্রাক্তন বিধায়ক ভূপেন্দ্রনাথ হালদারের হাত থেকে কংগ্রেসের পতাকা তুলে নেন নবাগতরা। এই মেগা যোগদান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
যোগদান পর্বের সভাটি কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের উল্লাস ও করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। এদিনের এই তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে ঈশা খান চৌধুরী ও ভূপেন্দ্রনাথ হালদার ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মানিকচকের প্রাক্তন বিধায়ক মোত্তাকিম আলম, পুরাতন মালদা ব্লক কংগ্রেস সভাপতি গোপাল সরকার এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতা উদয় মণ্ডল সহ অন্যান্য জেলা ও রাজ্য স্তরের নেতৃত্ব। কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, মহিষবাথানি একসময় তাঁদের অত্যন্ত শক্ত ঘাঁটি ছিল। মাঝের দীর্ঘ সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে সেই সংগঠন হাতছাড়া হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষ ও কর্মীরা ফের ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে কংগ্রেসের হাত শক্ত করতে শুরু করেছেন।
অন্যদিকে, শাসক দল ছেড়ে কংগ্রেসের পতাকা হাতে তুলে নেওয়া তৃণমূলের প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি সারাফত আলী বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক ও সামগ্রিক পরিস্থিতিতে কোনো আঞ্চলিক দলের পক্ষে সর্বভারতীয় স্তরে বা এককভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে কার্যকর ও জোরালো লড়াই করা সম্ভব নয়। একমাত্র বিজেপির বিরুদ্ধে চোখে চোখ রেখে আপসহীন লড়াই করতে পারলেই দেশ বাঁচবে, আর সেই লক্ষ্যেই তাঁরা কংগ্রেসের ছত্রছায়ায় ফিরে এসেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন পঞ্চায়েত ও বিধানসভা ভোটের আগে উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের এই দলীয় ভাঙন কংগ্রেসের পালে নতুন করে হাওয়া লাগাতে পারে।