এসি ট্রামের ঠান্ডা হাওয়ায় পুজো পরিক্রমা! এক টিকিটে উত্তর থেকে দক্ষিণ, জানুন ভাড়া ও রুট

কলকাতার দুর্গাপুজো মানেই চিরকালীন আবেগ, মণ্ডপে মণ্ডপে মানুষের উপচে পড়া ভিড় আর ভ্যাপসা গরম। তবে এবার পুজোয় ভিড়, গরম ও হাঁটাহাঁটির ক্লান্তি ভুলে সম্পূর্ণ আরামদায়ক ও বিলাসবহুলভাবে ঠাকুর দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ পরিবহণ নিগম (WBTC)। ঐতিহ্যবাহী কলকাতাকে নতুনভাবে তুলে ধরতে ফের চালু করা হচ্ছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (AC) ট্রামে বিশেষ পুজো পরিক্রমা। ২০২৬ সালের সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী—এই তিনদিন ধরে শহরের রাজপথে ছুটবে এই বিশেষ ট্রাম।
সাধারণ ট্রাম নয়, এই এসি ট্রামগুলি বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে আলো, ঢাকের বাজনা এবং মনোরম সাজসজ্জায়। পরিবহণ দপ্তরের মতে, পরিবেশবান্ধব ও দূষণহীন উপায়ে পুজো উপভোগ করার পাশাপাশি বাস বা গাড়ির ভিড় এড়িয়ে নির্বিঘ্নে শহর ঘোরানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ট্রামের ভেতরে যাত্রীদের সহায়তার জন্য থাকবেন একজন গাইড, যিনি প্রতিটি ঐতিহ্যবাহী পুজোর ইতিহাস ও মাহাত্ম্য সুন্দরভাবে তুলে ধরবেন।
রুট ও দর্শনীয় পুজো মণ্ডপ:
যাত্রীদের সুবিধার জন্য প্রধানত দুটি রুট ঠিক করা হয়েছে:
উত্তর কলকাতা রুট: এসপ্ল্যানেড থেকে সকাল ১০টায় রওনা দিয়ে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ হয়ে ট্রামটি যাবে শ্যামবাজারের দিকে। এই রুটে দেখা যাবে মহম্মদ আলি পার্ক, কলেজ স্কোয়ার, কাশী বোস লেন, নলিনী সরকার স্ট্রিট, হাতিবাগান সর্বজনীন এবং জগৎ মুখার্জি পার্ক।
দক্ষিণ কলকাতা রুট: এসপ্ল্যানেড থেকে ঘুরে গড়িয়াহাটের দিকে অগ্রসর হবে এই ট্রাম। এখানে দেখা মিলবে একডালিয়া এভারগ্রিন, সিংহী পার্ক, বালিগঞ্জ কালচারাল, বাদামতলা আষাঢ় সংঘ এবং মুদিয়ালি ক্লাবের মতো বিখ্যাত পুজো মণ্ডপগুলি।
বিশেষ ব্যাপার হলো, একটি মাত্র টিকিট কাটলেই দুই রুটের পুজোই উপভোগ করা যাবে। ট্রামগুলি মণ্ডপের সামনে ধীর গতিতে এগোবে, যাতে যাত্রীরা বড় কাচের জানলা দিয়ে স্বচ্ছন্দে ছবি তুলতে পারেন।
ভাড়া এবং অন্যান্য পরিষেবা:
এই এসি ট্রাম পরিক্রমার মাথাপিছু ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০০ টাকা। টিকিটের মূল্যের সঙ্গে যাত্রীরা পাবেন একটি ওয়েলকাম ড্রিংক, চা বা কফি এবং হালকা স্ন্যাকসের প্যাকেট। প্রতিটি ট্রামে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জনের বসার ব্যবস্থা রয়েছে।
এছাড়াও, যারা আরও দীর্ঘ সময় ধরে আরামে পুজো দেখতে চান, তাঁদের জন্য থাকছে WBTC-র এসি ভলভো বাস পরিষেবা এবং বনেদি বাড়ির পুজো পরিক্রমা প্যাকেজ। ভলভো বাসগুলি সকাল ৮টায় এসপ্ল্যানেড ও বারাসাত থেকে ছাড়বে, যার ভাড়া যথাক্রমে ২৪০০ ও ২৫০০ টাকা। এর মধ্যে সকালের প্রাতরাশ, দুপুরের খাবার এবং সন্ধ্যার স্ন্যাকস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে, বনেদি বাড়ির প্যাকেজে শোভাবাজার রাজবাড়ি, ছাতুবাবু লাটুবাবুর বাড়ি ও বাগবাজার হালদার বাড়ি ঘুরিয়ে দেখানো হবে।
কীভাবে কাটবেন টিকিট?
ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে টিকিট বুকিং প্রক্রিয়া। WBTC-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.wbtconline.in) এবং রেডবাস (Redbus) অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কাটা যাবে। পাশাপাশি এসপ্ল্যানেড, শ্যামবাজার ও গড়িয়াহাট ট্রাম ডিপোর কাউন্টার থেকেও অফলাইনে টিকিট সংগ্রহ করা সম্ভব। সীমিত আসন ও ব্যাপক চাহিদার কথা মাথায় রেখে পুজোর আগেই টিকিট বুক করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।