পিওকে-তে দাবানল! নিয়ন্ত্রণরেখা ও কাঁটাতারের বেড়া সরানোর দাবিতে মন্ধোলে ২৫ হাজার মানুষের ঐতিহাসিক সমাবেশ

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (PoK)-এ পাক প্রশাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। সম্প্রতি মন্ধোল গ্রামে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ অংশ নিয়ে সরব হন। নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC) এবং সেখানে থাকা কাঁটাতারের বেড়া অবিলম্বে সরিয়ে দেওয়ার একজোরালো দাবি উঠেছে এই সমাবেশ থেকে। একই সঙ্গে পুঞ্চ ও মেন্ধরের সঙ্গে সংযোগকারী ঐতিহ্যবাহী পুরনো রাস্তাটি পুনরায় খুলে দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মন্ধোল গ্রামের এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট অবামী অ্যাকশন কমিটির (JKJAAC) অন্যতম শীর্ষ নেতা সরদার আমান খান। সাম্প্রতিক সময়ে PoK-তে চলা জনরোষের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে পরিচিত তিনি।

সমাবেশ চলাকালীন আমান খান উপস্থিত জনতার উদ্দেশে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানতে চান যে, যুদ্ধবিরতি রেখা বা সিজফায়ার লাইন তুলে দেওয়া উচিত কি না এবং LoC-র ফেন্সিং বা বেড়ার দাবিতে সেখানে ধর্না কর্মসূচি শুরু করা উচিত কি না। উপস্থিত হাজার হাজার জনতা হাত তুলে এই দাবিগুলোতে পূর্ণ সমর্থন জানান। এরপরেই আমান খান ঘোষণা করেন যে, খুব শীঘ্রই LoC-এর বেড়ার কাছে ধর্না আন্দোলন শুরু করা হবে। স্থানীয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকার পুরনো যোগাযোগ পুনরুদ্ধারের দাবিতেই এই রাজনৈতিক কর্মসূচি রূপায়ণ করা হবে বলে জানান তিনি।

পাশাপাশি, সমাবেশে সরাসরি পাকিস্তান সেনার বিরুদ্ধে চক্রান্ত ও নিপীড়নের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন আমান খান। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, অতীতে LoC এলাকায় গোলাগুলি ও সংঘর্ষ শুরু হলে পাক সেনার সদস্যরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য নিজেদের ব্যারাকে ঢুকে পড়তেন। সেই চরম সংকটময় মুহূর্তে স্থানীয় সাধারণ মানুষই তাঁদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে আশ্রয় দিয়েছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় যে, সেই অসহায় স্থানীয় বাসিন্দাদেরই পরবর্তীতে গত কয়েক মাসের বিভিন্ন আন্দোলনের সময়ে পাকিস্তান সেনার প্রধান নিশানা হতে হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মন্ধোলের এই বিশাল জনসমাবেশ PoK-তে দীর্ঘকাল ধরে ধিকিধিকি জ্বলা বৃহত্তর আন্দোলনেরই একটি অত্যন্ত শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ। এর আগে রাওয়ালাকোটসহ বিভিন্ন অঞ্চলেও বড় আকারের বিক্ষোভ সংঘটিত হয়েছে। বর্তমান সময়ে কেবল স্থানীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবই নয়, বরং পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ ও শোষণের বিরুদ্ধেও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন আন্দোলনকারীরা। JKJAAC-এর নেতারা তাঁদের ভাষণে তথাকথিত ‘আজাদ কাশ্মীর’ শব্দবন্ধটি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, এই অঞ্চলটিকে একটি জবরদখলীকৃত এলাকা হিসেবেই গণ্য করা উচিত। মন্ধোলের এই সমাবেশ থেকে পাক নিয়ন্ত্রণের অবসান, LoC-এর বেড়া অপসারণ এবং পুঞ্চ-মেন্ধরের ঐতিহাসিক পথ খুলে দেওয়ার যে দাবি জোরালো হয়েছে, তা ইসলামাবাদ প্রশাসনের উদ্বেগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে LoC-র কাছাকাছি নতুন করে ধর্না কর্মসূচির ঘোষণা করায় গোটা অঞ্চলজুড়ে প্রবল রাজনৈতিক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলের নজরও এখন এই পরিস্থিতির ওপর রয়েছে।